1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার পেল ৩ ব্যাংক - Business Protidin

১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার পেল ৩ ব্যাংক

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি খাতের তিন ব্যাংককে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক তিনটি হলো ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও এবি ব্যাংক। এই টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলো গত সোমবার বছরের শেষ দিনের চলতি হিসাবের ঘাটতি পূরণ করেছে। এর ফলে ব্যাংক তিনটির চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত দেখানো হয়।

এ ছাড়া ধারের বাইরে আলাদা করে তারল্য সহায়তা হিসেবে এবি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছর শেষে আর্থিক হিসাব ভালো দেখাতে ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও এবি ব্যাংককে এই অর্থ ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ বছরে নানা অনিয়মের কারণে ব্যাংক তিনটি বড় ধরনের তারল্যসংকটে পড়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় যুক্ত হয়ে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ একাই ঋণের নামে নানা ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকটি থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা বের করে নেয়, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশ।

এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানায় থাকা সিকদার গ্রুপের পাশাপাশি ব্যাংকটি থেকে বেক্সিমকো, মাইশা, বসুন্ধরা, এফএমসি, সাইফ পোর্ট হোল্ডিং ও সাইফ পাওয়ারটেক, নাসা, ফু–ওয়াং ফুড ও এসএস স্টিল ও কর্ণফুলী গ্রুপ ঋণের নামে বড় অঙ্কের অর্থ বের করে নিয়েছে। এসব ঋণ এখন আর নিয়মিত আদায় হচ্ছে না। এরই মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে নেওয়া আওয়ামী লীগ দলীয় প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মাইশা গ্রুপের ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে।

এই ব্যাংকের খেলাপি অন্য গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল, ব্রডওয়ে রিয়েল এস্টেট, নুরজাহান গ্রুপ, ডাইকিং স্মার্ট ব্যাটারি, এহসান গ্রুপ, মিলেনিয়াম গ্রুপ, ওপেক্স সিনহা গ্রুপ, মরিয়ম কনস্ট্রাকশন, আরএসএ ক্যাপিটাল, কেয়া কসমেটিক, ইনডিপেনডেন্ট টিভি ও জিএমজি এয়ারলাইনস।

এ ছাড়া এবি ব্যাংকও নানা অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারল্যসংকটে ভুগছে। ব্যাংকটির অন্যতম উদ্যোক্তা বিএনপি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাংকটি তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যাংকটিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিন ব্যাংককে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ধারের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক ধার পেয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা ও এবি ব্যাংক পেয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। এসব ধারের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে সুদ দিতে হবে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে। গত সোমবার ধার দেওয়া এই অর্থ আজ বুধবার ফেরত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধারের বাইরে এবি ব্যাংককে আরও ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির দৈনন্দিন তারল্য চাহিদা মেটাতে এই অর্থ ধার দেওয়া হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com