1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কঠোরতা, ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলার ভিড় - Business Protidin

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কঠোরতা, ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলার ভিড়

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টানা চার দিনের ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এই সময়ে ব্যাংক শাখায় সরাসরি লেনদেন সীমিত থাকবে। একই সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক অবৈধ অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বিশেষ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ছুটি শুরুর আগেই ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের চাপ বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান শাখা ও উপশাখায় গিয়ে দেখা যায়, নগদ টাকা তুলতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই জানিয়েছেন, সংসারের খরচ ও বেতন পরিশোধের প্রয়োজন মেটাতে তারা আগেভাগেই টাকা তুলছেন।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন সীমিত করা হবে—এমন খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক গ্রাহক দ্রুত মোবাইল অ্যাপ থেকে টাকা ব্যাংকে স্থানান্তর করে এটিএম বুথ ও ব্যাংকের কাউন্টারে ভিড় করেন।

এরআগে গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) খাতে লেনদেন সীমা নির্ধারণ করে সার্কুলার জারি করে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দৈনিক লেনদেন সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনে প্রতিবার এক হাজার টাকা করে তুলতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (পি-টু-পি) অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা এই বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণা এবং নির্বাচনী ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাবে বড় অঙ্কের নগদ উত্তোলন বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাজারে তারল্যও বেড়েছে, যার একটি অংশ নগদ হিসেবে বাজারে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই অর্থের একটি অংশ নির্বাচনী ব্যয়ে ব্যবহৃত হতে পারে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো হিসাবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন হলে ব্যাংকগুলোকে তা বিএফআইইউতে ‘ক্যাশ ট্রানজ্যাকশন রিপোর্ট’ (সিটিআর) হিসেবে জমা দিতে হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগদ সংকটের অভিযোগ

মোবাইল ব্যাংকিং সীমার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, নগদ টাকার সরবরাহ কম থাকায় চাহিদামতো টাকা তুলতে পারেননি।

কারওয়ান বাজারের একটি বেসরকারি ব্যাংকের গ্রাহক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশেষ প্রয়োজনে সাত হাজার টাকা তুলতে এসেছিলাম। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। কিন্তু নগদ সংকট থাকায় শেষ পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা তুলতে পেরেছি।’
কলমানি বাজারে চাহিদা বেড়েছে

নগদ উত্তোলনের চাপ সামলাতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি মার্কেট) নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। গতকাল ব্যাংকগুলো প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ধার করেছে, যা আগের কর্মদিবস বৃহস্পতিবারের প্রায় চার হাজার কোটি টাকার তুলনায় দেড় হাজার কোটি টাকা বেশি। কলমানি মার্কেটের ওভারনাইট সুদহার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা আগের দিন ছিল ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্বাচনে অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে নির্ধারিত সময়ের জন্য এমএফএস লেনদেন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটিএম বুথ ও চেকের মাধ্যমে লেনদেন স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত সময় শেষে মোবাইল ব্যাংকিং স্বাভাবিক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com