মোহাম্মদ জহির উদ্দিন: বাংলাদেশের জীবন বিমা শিল্প দেশের দীর্ঘ মেয়াদি সঞ্চয়, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। সম্ভাবনাময় এই খাতটি এখনও গ্রাহকের আস্থা, করপোরেট সুশাসন, পরিচালন দক্ষতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং সেবার উৎকর্ষ—এসব ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতির সুযোগ বহন করছে।
এমন প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্ব তথা মাননীয় চেয়ারম্যান আইডিআরএ এর ঘোষিত ‘তিন স্তম্ভ’—সুশাসন, জবাবদিহিতা ও আস্থা পুনর্গঠন—জীবন বিমা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সময়োপযোগী কৌশলগত দিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং পেশাদার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে। জবাবদিহিতা, দাবি নিষ্পত্তি, আর্থিক প্রতিবেদন, নিয়ন্ত্রক প্রতিপালন (Compliance) এবং সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।
অন্যদিকে, আস্থা পুনর্গঠন—গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং নৈতিক ব্যবসায়িক সংস্কৃতির মাধ্যমে—জীবন বিমা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
তবে এই রূপান্তর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিমা কোম্পানি,উদ্যোক্তা, পেশাদার নির্বাহী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এজেন্সি নেটওয়ার্ক—সকল অংশীজনের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত।
জীবন বিমা শিল্পে তিন দশকেরও বেশি সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমার বিশ্বাস, নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব, কার্যকর করপোরেট গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল রূপান্তর এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে বাংলাদেশের জীবন বিমা শিল্প একটি নতুন আস্থা, স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির যুগে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে।
শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সুশাসিত ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকের আস্থাই হোক বাংলাদেশের জীবন বিমা শিল্পের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
Leave a Reply