1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
দুই বছরের মুনাফা পাচ্ছেন একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা - Business Protidin

দুই বছরের মুনাফা পাচ্ছেন একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিতর্কের মুখে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ দুই বছরের জন্য আমানতকারীরা ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। চলতি বছর থেকে কার্যকর হবে বাজারভিত্তিক মুনাফা। বর্তমানে ব্যাংকটির মুনাফার হার সাড়ে ৮ শতাংশের কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সব ব্যাংকের প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এক চিঠিতে জানায়, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা প্রযোজ্য হবে না। কেউ এ সময় মুনাফা তুলে থাকলে তা ‘হেয়ারকাট’ করে মূলধন থেকে সমন্বয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক আমানতকারী। একীভূত হওয়া একাধিক ব্যাংকও লিখিতভাবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানায়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবহেলার কারণে সংঘটিত অর্থ আত্মসাতের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানো শরিয়াহসম্মত নয় বলে মত দেয় সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড।

ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সরকার ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর জমা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় ৭৭ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি।

জানা গেছে, মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরেও ভিন্নমত দেখা দেয়। ইসলামী ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানত গ্রহণ করে ‘মুদারাবা’ পদ্ধতিতে এবং চলতি আমানত গ্রহণ করে ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ পদ্ধতিতে। মুদারাবা ব্যবস্থায় আমানতকারী হন ‘সাহিব-আল-মাল’ (মূলধন সরবরাহকারী) এবং ব্যাংক থাকে ‘মুদারিব’ (ব্যবস্থাপক) হিসেবে।

এ পদ্ধতিতে চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা বণ্টন হয়। স্বাভাবিক ব্যবসায় লোকসান হলে আমানতকারী লোকসানের অংশ নিলেও, ব্যাংকের অবহেলা, অসদাচরণ বা বিশ্বাসভঙ্গের কারণে লোকসান হলে তার সম্পূর্ণ দায় ব্যাংকের ওপরই বর্তায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলো বাহরাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যানশিয়াল ইনস্টিটিউশন্স (এএওআইএফআই)-এর শরিয়াহ মানদণ্ড অনুসরণ করে। সে মানদণ্ড অনুযায়ী, মুদারাবা একটি ট্রাস্টভিত্তিক চুক্তি—যেখানে বিশ্বাসভঙ্গের প্রমাণ মিললে মূলধনের দায়ভারও মুদারিব, অর্থাৎ ব্যাংকের ওপর বর্তায়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com