নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেশে পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অর্থ ব্যয় করে মানুষকে উসকানি দিচ্ছে। তবে এসব অপচেষ্টা টিকবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গভর্নর।
গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সবার প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আমরা কথা দিয়ে নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই—সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমরা সন্তুষ্ট করতে পেরেছি।
মুনাফা ও বেয়ার্ডেন শেয়ারিং
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা বিতরণ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সরকার একা সব দায় বহন করতে পারে না। পৃথিবীর সব দেশেই বেয়ার্ডেন শেয়ারিং ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু আমানতকারী দুই বছরের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন। কিন্তু এর আগের বছরগুলোতে তারা ১২ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেয়েছেন। সামনের দিনগুলোতেও তারা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। তাহলে প্রশ্ন হলো—আর কী চাই?
গভর্নর আরও বলেন, সরকার জনগণের অর্থ দিয়ে এই ব্যাংককে অস্বাভাবিকভাবে সহায়তা করেছে। আমার প্রত্যাশার তুলনায় সরকার অনেক বেশি সহায়তা দিয়েছে। এজন্য আমানতকারীদের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
চট্টগ্রামের পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি শাখায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ভিডিও ধারণ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে রয়েছে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধন নির্ধারিত তারিখে না হওয়ার পেছনেও এসব অপতৎপরতার ভূমিকা রয়েছে।
নতুন স্ট্যান্ডার্ড নয়, বাস্তব সমাধান
ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মুনাফা বিতরণে আউফি (এএওআইএফআই) স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োগের প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, এটি কোনো নতুন স্ট্যান্ডার্ড চালুর বিষয় নয়। এটি একটি চলমান ব্যাংকের সমস্যা সমাধানের বিষয়।
তিনি বলেন, ব্যাংক না থাকলে মুনাফা দেবে কে? তাই বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে দেখতে হবে।
ছুটি ও পদত্যাগের গুজব নাকচ
নিজের ছুটি ও পদত্যাগ নিয়ে ছড়ানো গুজব সরাসরি নাকচ করে দেন গভর্নর। তিনি বলেন, আমি কোনো ছুটির দরখাস্ত দেইনি, ছুটি মঞ্জুরও হয়নি, ছুটি নেওয়ার কোনো ইচ্ছাও নেই। আমি প্রতিদিন রাত ১০টার আগে বাসায় যেতে পারি না। ছুটি নেওয়ার সময় কোথায়?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, গত এক বছরে যে পরিমাণ সংস্কার হয়েছে, তা গত ১৪–১৫ বছরেও হয়নি। তিনি জানান, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপ কমানো হচ্ছে।
গভর্নর বলেন, ব্যাংকের শাখা অনুমোদন, ভাড়া বা স্কয়ার ফিট নির্ধারণ আমাদের কাজ নয়। আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট, ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টের উন্নয়ন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে গভর্নর সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা নিজেরা ব্যাংকে গিয়ে দেখুন, শুনুন ও বুঝুন। অন্যের কথায় বিশ্বাস করবেন না। বাংলাদেশে গুজবের কোনো শেষ নেই।
Leave a Reply