বাণিজ্য ডেস্ক: মধ্যপাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বেড়েছে তেলের দাম। মাঝে দুই দিন দাম কমার পর আজ বৃহস্পতিবার আবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে ইরানের সতর্কবার্তা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আল জাজিরার এক সংবাদে এ তথ্য জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে সকালের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫০ ডলারে ওঠে। যদিও গতকাল বুধবার বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা সমন্বয়কারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির ৩২ সদস্যদেশ ঘোষণা করেছে, সরবরাহের ঘাটতির আশঙ্কা মোকাবিলায় তারা সম্মিলিতভাবে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই ঘোষণার পরও বাজারে তেলের দাম কমেনি, বরং আজ আবার উল্টো বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে। এই ঘোষণার প্রভাবেও তেলের দাম কমেছিল।
এদিকে ইরান ছেড়ে কথা বলছে না। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো জাহাজে হামলা করা হতে পারে। তার ভাষায়, কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না, বাজার নির্ভর করবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। ফলে বিশ্ববাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে, তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে নিরাপত্তা না থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে।
জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তটিও নজিরবিহীন। এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে, তখন সদস্যদেশগুলো যে পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এবার তার দ্বিগুণেরও বেশি তেল বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
Leave a Reply