নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় ছয়টি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের শেয়ারবাজারে হবে বড় কাঠামোগত পরিবর্তন।
নতুন পরিকল্পনায় শেয়ারবাজার সংস্কার কমিশন ও তদন্ত কমিশন গঠন, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পদক্ষেপ, শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব, নতুন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বাড়াতে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব।
এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেছেন, শেয়ারবাজার উন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এরই মধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে তৈরি করা হয়েছে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনায় শেয়ারবাজারকে শুধু লেনদেনকেন্দ্রিক বাজার হিসেবে নয়, বরং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনায় শেয়ারবাজারের সংস্কারে সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজারে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তে বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে। বাজারের উন্নয়নে এ দুই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।
শেয়ারবাজারে কারসাজি (ম্যানিপুলেশন), ইনসাইডার ট্রেডিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় এবং কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসংগত করনীতি প্রণয়ন এবং জোরদার করা হবে সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।
এদিকে নতুন পরিকল্পনা বিএসইসির নজরদারিতে যুক্ত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার। বিএসইসির নিজস্ব অর্থায়নে এআইভিত্তিক নজরদারি সফটওয়্যারের কারিগরি উপযুক্ততা এবং প্রয়োজনীয় ব্যয় প্রক্ষেপণের জন্য পরামর্শ নিয়োগ দেওয়া হবে। আধুনিক এই প্রযুক্তি বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করবে ও নজরদারির পথ সুগম করবে।
বিনিয়োগ শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে পরিকল্পনায়। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা ও শেয়ারবাজার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন আইনপ্রণয়নের অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনায় নতুন করপোরেট গভর্নেন্স বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন, নিরীক্ষক প্যানেলভুক্ত করার নীতিমালা তৈরি এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হবে।
বিএসইসিকে আরও স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে নতুন অর্থবছরের পরিকল্পনায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় কমিশনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজের লক্ষ্যে বিএসইসি প্রস্তুত রয়েছে।
Leave a Reply