1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী - Business Protidin
শিরোনাম :
ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তা-পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পিপলস লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদে আসতে চায় উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন এমডি আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদান শেখ হাসিনা পরিবারসহ ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: বিএফআইইউ পুরনো মালিকানায় ফিরছে আল-আরাফাজ ব্যাংক ব্যাংক থেকে মাসে ৩ বারের বেশি টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার সুপারিশ ডিএসইতে সুশাসন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আবেদন তিন মাসে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ২০১২ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে আসছে রয়্যাল ফুটওয়্যার, বিএসইসির অনুমোদন

কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার দ্রুত বিস্তারে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের ১২ লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে ২০৪১ সালের মধ্যে এই খাতে নিয়োজিত প্রায় ৬০ শতাংশ নারী কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সিপিডি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে প্রয়োজনীয় নীতিগত প্রস্তুতি না থাকায় আগামী দিনে এমন ঝুঁকির কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

‘পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশ : বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মপরিবেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দূরদৃষ্টি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন দেশের শ্রমবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই নারী কর্মীদের।

ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, কর্মসংস্থান কাঠামোয় যে পরিবর্তন আসছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে নীতিনির্ধারকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষাব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার বড় ধরনের অমিল রয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় (টিভিইটি) ভর্তির হার ২০ শতাংশেরও কম, অন্যদিকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ব পরিবর্তন হচ্ছে। কর্মসংস্থান কাঠামোর পরিবর্তন হচ্ছে। নীতি নির্ধারকদের পরিবর্তনের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। দুই কারণে এটা হচ্ছে, একটা হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্র, আর বাজার ও কর্মসংস্থানের ভেতরে মিসম্যাচ আছে। দক্ষতার অভাব, ভৌগলিক কারণ রয়েছে। অন্যদিকে এআই ও অটোমেশনে বিপ্লব ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন দেশের শ্রমবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই নারী কর্মীদের।

অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে এআই ও অটোমেশন ১ কোটি ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করলেও প্রায় ৯০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত করবে। ফলে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ৮১ লাখে স্থির হয়ে আছে, যদিও উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে সেবা খাতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ কাজ করলেও এর বড় অংশই অনিরাপদ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান। শিক্ষা ব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার বড় ধরনের অমিল রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় (টিভিইটি) ভর্তি ২০ শতাংশেরও কম এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

সিপিডি বলছে, ২৭টি জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিবর্তনশীল উপাদান বিশ্লেষণ করে ২০৩৫ সালের জন্য চারটি সম্ভাব্য শ্রমবাজারের চিত্র তৈরি করা হয়েছে। তবে সব পরিস্থিতিতেই পাঁচটি বিষয় অভিন্ন থাকবে—ডিজিটালায়ন অপরিবর্তনীয় হবে, কর্মসংস্থান উচ্চমূল্যের সেবাখাতে স্থানান্তরিত হবে, দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকবে, বৈশ্বিক ধাক্কার ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে এবং সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ওপর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান নীতিমালায় চারটি বড় ঘাটতি রয়েছে। প্ল্যাটফর্ম ও গিগ অর্থনীতির শ্রমিকদের জন্য কোনো সমন্বিত কাঠামো নেই, অটোমেশনের প্রভাব নীতিনির্ধারণে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন কম এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অনুপস্থিত।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিপিডি কয়েকটি সুপারিশ করেছে।

যার মধ্যে রয়েছে- শিল্পের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা সংস্কার, জীবনব্যাপী পুনঃদক্ষতা (রিস্কিলিং) কর্মসূচি চালু, কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিল্প প্রণোদনা যুক্ত করা, শিক্ষা ও দক্ষতা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, জাতীয় শ্রমবাজার তথ্য ব্যবস্থা (এলএমআইএস) গড়ে তোলা ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান কৌশল গ্রহণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার না হলে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা কঠিন হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com