নিজস্ব প্রতিবেদক: এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে ৮ হাজার ৯৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনই এস আলমের জন্মস্থান চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা। বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগের সুযোগে নির্দিষ্ট একটি এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম ছিল। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়াকে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ২০১৭ সালের পর এসব নিয়ম অনুসরণ না করেই বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালায় নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। এতে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই বিধান ব্যবহার করে প্রবেশনারি পদসহ বিভিন্ন পদে অস্বাভাবিক সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে নিয়োগের জন্য সিভি সংগ্রহের একটি পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি ও চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির প্রার্থীদের সিভি জমা দেওয়ার জন্য আলাদা বক্স রাখা হতো। পরে পছন্দের প্রার্থীদের ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো এবং সেখান থেকে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংকের ২৪তম প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচে নিয়োগেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। ৮৪০ জনের তালিকা থেকে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হলেও নির্ধারিত ৫০ শতাংশ পাস নম্বর পান মাত্র ৩৬ জন। পরে পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এতে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ২ হাজার ২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (জেনারেল), ২ হাজার ৮২৮ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) এবং ৫০১ জন ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার নিয়োগের তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পরবর্তীতে এসব নিয়োগ নিয়ে বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। মোট ৫ হাজার ৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। বাকি ৪ হাজার ৯৭২ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন দিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।
Leave a Reply