নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বন্ধ শিল্প-সেবা খাত, কৃষি, রপ্তানি, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে গঠিত ৬০ হাজার কোটি টাকার ১৫টি বিশেষ অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় মোট ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকার অর্থ বিতরণ ও প্রক্রিয়াকরণের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরও ২ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার অর্থ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ভিত্তিক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে উদ্যোক্তা তৈরি, শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব স্কিম গঠন করা হয়েছে। তবে সব স্কিমে অর্থ বিতরণের অগ্রগতি সমান নয়। কয়েকটি স্কিমে উল্লেখযোগ্য অর্থ বিতরণ হলেও কিছু স্কিমে এখনো অর্থ বিতরণ শুরু হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বিতরণের তথ্য রয়েছে। কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির বিশেষ স্কিমে বিতরণের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প খাতের চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বিতরণ করা হয়েছে ৯০৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতকে সহায়তা দিতে গঠিত প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমে মোট ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৪৩ লাখ টাকার অর্থ প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রক্রিয়াধীন এবং ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য গঠিত ৫০০ কোটি টাকার স্কিমে পুরো অর্থ বিতরণের তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বিতরণ হয়েছে ২৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঠিত ১ হাজার কোটি টাকার স্কিমে ২০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার স্কিমে বিতরণের পরিমাণ ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
স্টার্টআপ খাতে অর্থায়নের জন্য গঠিত ৫০০ কোটি টাকার স্কিমে ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অর্থ প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন এবং ৩২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঠিত ১ হাজার কোটি টাকার স্কিমে ১ হাজার কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন হিসেবে দেখানো হয়েছে। সবুজ কারখানা নির্মাণ ও গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিতে পুনঃঅর্থায়নের ১ হাজার কোটি টাকার স্কিমে ৫২৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানিমুখী খাতের ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৯৮ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার জন্য ১ হাজার কোটি টাকা এবং হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানিমুখী খাতে ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমে প্রতিবেদনের তারিখ পর্যন্ত অর্থ বিতরণ বা প্রক্রিয়াকরণের কোনো অগ্রগতি দেখানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, ৬০ হাজার কোটি টাকার এসব স্কিমের বিপরীতে বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন অর্থের পরিমাণ মোট বরাদ্দের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। শিল্প, কৃষি, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান খাতে এসব তহবিলের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে অর্থ বিতরণের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply