নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জীবনবিমা খাতে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গ্রাহকসেবায় অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির এ অগ্রযাত্রায় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ কাজিম উদ্দিনের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন কোম্পানিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আমির হোসেন জনি। তবে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সাফল্য ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি চক্র তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিজনেস প্রতিদিনকে আমির হোসেন জনি বলেন, বীমা খাতে টেকসই ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের জন্য যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং প্রতিশ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে পারলেই একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে বাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ন্যাশনাল লাইফের সিইও মোহাম্মদ কাজিম উদ্দিন তাঁর সততা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বীমা শিল্পে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সম্প্রসারণ, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হচ্ছে।
আমির হোসেন জনি বলেন, ন্যাশনাল লাইফের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল নানা উপায়ে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন ও অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশে সফল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা দেখা যেতে পারে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের চেয়ে গ্রাহকদের আস্থা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চায় ন্যাশনাল লাইফ।
তিনি আরও বলেন, বীমা খাতে শুধু ব্যবসার পরিমাণ বাড়ানোই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়; গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন, যথাসময়ে বিমা দাবি পরিশোধ এবং প্রতিশ্রুত সেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল লাইফ এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।
প্রিমিয়াম আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি
কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ন্যাশনাল লাইফের মোট প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এ আয় ছিল প্রায় ২ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
ব্যবসায়িক এ প্রবৃদ্ধির পেছনে দেশজুড়ে বিস্তৃত কার্যক্রম, উন্নয়নকর্মীদের সক্রিয়তা এবং গ্রাহকদের কাছে বিমাসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানিটির ম্যানেজারস কনফারেন্স ও ব্যবসা পরিকল্পনা সভায় আগের বছরের অর্জন পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন বছরের ব্যবসায়িক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এতে সারা দেশ থেকে প্রায় এক হাজার উন্নয়ন কর্মকর্তা অংশ নেন।
আর্থিক ভিত্তি ও গ্রাহকসেবায় গুরুত্ব
ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যাশনাল লাইফের জীবনবিমা তহবিল ও বিনিয়োগেও অগ্রগতি দেখা গেছে। কোম্পানিটির ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছরের শেষে জীবনবিমা তহবিলের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। আগের বছর এ তহবিল ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। একই সময়ে মোট বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
জীবনবিমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বিমা দাবি যথাসময়ে পরিশোধ করা। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পলিসি গ্রাহকদের প্রায় ১ হাজার ২০৪ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়। এর আগের বছর দাবি পরিশোধের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ১০১ কোটি টাকা।
আমির হোসেন জনি বলেন, গ্রাহকদের সঠিক সেবা দেওয়াই ন্যাশনাল লাইফের সাফল্যের মূল ভিত্তি। গ্রাহকদের প্রয়োজনের সময় তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। এ আস্থাকে পুঁজি করেই ন্যাশনাল লাইফ বীমা শিল্পে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চায়।
সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যয়
বীমা খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ন্যাশনাল লাইফের ক্ষেত্রেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের অন্যতম শর্ত।
কোম্পানিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ন্যাশনাল লাইফের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা আশাবাদী। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি, সেবার মান এবং বিমা খাতে আস্থার পরিবেশ তৈরির মধ্য দিয়ে।
Leave a Reply