1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
পাঁচ বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রিতে অনিয়ম, নথি যাচাই করবে বিএসইসি - Business Protidin
শিরোনাম :
আইপিও’র নিয়মে বড় পরিবর্তন, বাড়ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুবিধা পাঁচ বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রিতে অনিয়ম, নথি যাচাই করবে বিএসইসি জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন এস এম নুরুজ্জামান প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের ৫ লাখ টাকার মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর স্বাস্থ্যবীমার বাইরে দেশের ৯৯.৬ শতাংশ শিশু বাংলাদেশে শতকোটি ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব স্কয়ার ফার্মার ৭২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের উদ্যোগ দাবি পরিশোধ, গ্রাহক সন্তুষ্টি ও বীমা খাতের ভবিষ্যৎ সাত নভেম্বর বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক

পাঁচ বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রিতে অনিয়ম, নথি যাচাই করবে বিএসইসি

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে পাঁচ বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব থেকে মালেক স্পিনিং মিলসের শেয়ার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিনিয়োগকারীদের দাবি, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই এসব শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শেয়ার বিক্রির নির্দেশ কে দিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট আদেশপত্রের স্বাক্ষর ও নথি আসল কি না এবং বিক্রির অর্থ কোথায় গেছে—তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এ ঘটনায় ব্রোকারেজ হাউস সিটি ব্রোকারেজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ভূমিকা তদন্ত করা হবে। দুই প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে অসংগতি এবং বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ার বিক্রির নির্দেশ, নথিপত্র, লেনদেন নিষ্পত্তি ও অর্থ সমন্বয়ের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

সম্প্রতি বিএসইসির বাজার গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার বিক্রির নির্দেশ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন বক্তব্য

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, সিটি ব্রোকারেজের দাবি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রির নির্দেশ পেয়েছিল তারা। তবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পাঁচ বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, তাঁরা তাঁদের শেয়ার বিক্রির অনুমতি দেননি।

এ অবস্থায় শেয়ার বিক্রির নির্দেশের প্রকৃত উৎস কী, কে তা অনুমোদন করেছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, তা নির্ধারণ করবে তদন্ত কমিটি। দুই প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের অসংগতি কেন তৈরি হয়েছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আদেশপত্র জাল বা পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না

তদন্তে শেয়ার বিক্রির নির্দেশসংক্রান্ত আদেশপত্রের সত্যতা বিশেষভাবে যাচাই করা হবে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের কাছে থাকা মূল নথি পরীক্ষা করে এর প্রস্তুতের সময়, স্বাক্ষরকারীর পরিচয়, তারিখ, ক্রমিক নম্বর এবং সিটি ব্রোকারেজের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে।

পাশাপাশি সিটি ব্রোকারেজের জমা দেওয়া নথির সঙ্গে মূল আদেশপত্রের মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। নথিগুলো যথাসময়ে তৈরি হয়েছিল, নাকি পরে তৈরি, পরিবর্তন বা জাল করা হয়েছে কিংবা আগের তারিখ দেখিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে। প্রয়োজনে নথির সত্যতা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হবে।

বিক্রির অর্থ কোথায় গেছে, তদন্তে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু শেয়ার বিক্রির অনুমোদন নয়, বিক্রির অর্থ কোথায় জমা হয়েছে এবং কীভাবে সংশ্লিষ্ট হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখবে বিএসইসি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিবরণ, শেয়ার স্থানান্তর, নিষ্পত্তি, হিসাবের খতিয়ান এবং অর্থ সমন্বয়ের নথি পরীক্ষা করা হবে।

বিক্রির অর্থ কোনো মার্জিন ঋণের দায়ের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, সেটিও নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে পাঁচ বিনিয়োগকারীর শেয়ারে কোনো মেয়াদি নিষেধাজ্ঞা বা লক-ইন ছিল কি না, এসব শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং জামানত হিসেবে শেয়ার ব্যবহার ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করবে কমিটি।

অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায় নির্ধারণ

তদন্তে সিটি ব্রোকারেজ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্রোকার এবং লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। শেয়ার বিক্রির আদেশ তৈরি, অনুমোদন, পাঠানো ও কার্যকর করার প্রতিটি ধাপে কার কী দায়িত্ব ছিল, তা নির্ধারণ করা হবে।

অননুমোদিত লেনদেন, যোগসাজশ, নথি জাল বা পরিবর্তন, অবহেলা কিংবা অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

বিএসইসি আইন, ১৯৯৩-এর ১৭(ক) ধারায় এ তদন্ত পরিচালিত হবে। কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ, আর্থিক প্রভাব পরিমাপ এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে তদন্ত কমিটি।

তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com