1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
স্বাস্থ্যবীমার বাইরে দেশের ৯৯.৬ শতাংশ শিশু - Business Protidin

স্বাস্থ্যবীমার বাইরে দেশের ৯৯.৬ শতাংশ শিশু

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম এবং ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় রয়েছে। অর্থাৎ দেশের ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্যবীমার বাইরে। ফলে অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে অধিকাংশ পরিবারকে নির্ভর করতে হচ্ছে নিজেদের আয়, সঞ্চয় কিংবা ঋণের ওপর।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি হাজারে মাত্র চার শিশু স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা পায়। ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ এ সুবিধা পায় অভিভাবকের কর্মস্থলভিত্তিক বীমার মাধ্যমে। এ বয়সী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ এবং সবচেয়ে ধনী পরিবারের ১ দশমিক ৩ শতাংশ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যবীমার সীমিত পরিসরের পাশাপাশি দেশের মানুষের নিজস্ব পকেট থেকে চিকিৎসার ব্যয় বহনের হারও উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৩ সালে দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৩১ শতাংশ বহন করেছেন রোগী ও তাঁদের পরিবার।

হামের চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস-রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের জরিপে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত রোগী থাকা ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ৮৯ শতাংশ চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণ নিয়েছে। ৬১ শতাংশ পরিবার শেষ করেছে সঞ্চয়। পরিবারপ্রতি গড় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয় অনেক পরিবারকে। বেসরকারি হাসপাতালে জটিল চিকিৎসায় ব্যয় আরও বেড়ে যায়। এক শিশুর হামের জটিলতায় আইসিইউ বিলই চার লাখ ৬০ হাজার টাকা ছাড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশে কিছু বেসরকারি স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা থাকলেও তা সবার নাগালে নয়। অন্যদিকে, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাব্যয় কমাতে চালু করা স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যক্রম ২০২৪ সালের জুলাই থেকে স্থগিত রয়েছে বলে একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শিশুদের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবীমার বিস্তার, দরিদ্র পরিবারের সুরক্ষা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com