বাণিজ্য ডেস্ক: সিটি গ্রুপের ব্যবসা সচল রাখা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন করে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিতে চায় আটটি বেসরকারি ব্যাংক। পাশাপাশি গ্রুপটির অনুকূলে ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং বিদ্যমান খেলাপি ঋণ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড় চেয়েছে ব্যাংকগুলো।
গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সিটি গ্রুপ ও ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যাংকগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে ঋণ অশ্রেণিকৃত রাখার বিষয়ে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত সিন্ডিকেটেড ঋণে সিটি ব্যাংক ৩০০ কোটি টাকা এবং অন্য সাতটি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা করে দেবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের ঋণ ছিল ২৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর আগে গ্রুপটি ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ ১২ বছরের জন্য পুনঃতফসিল এবং চলতি মূলধন হিসেবে অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল।
গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রুপটির ঋণের বিদ্যমান শ্রেণিমান ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার অনুমতি দেয়। মেয়াদ শেষে সুবিধা না বাড়ানোয় গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে পড়ে। এতে নতুন ঋণ ও এলসি খোলার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, নতুন অর্থায়নের আয় থেকে অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলো টাকা পাবে—এমন ব্যবস্থা করতে এসক্রো হিসাব খোলা হবে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সম্পদ বিক্রি করে বকেয়া ঋণ সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে ঋণের ডাউন পেমেন্টে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে না।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে নতুন ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আইনের ১২১ ধারায় সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অব্যাহতি দিতে পারে। এ ধারায় বিশেষ ছাড় চেয়েছে ব্যাংকগুলো।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)
Leave a Reply