নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) গত ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল ব্যবসায় বড় লোকসান করেছে। আলোচিত সময়ে ডিএসইর পরিচালন লোকসান হয়েছে ৪৯ কোটি টাকার বেশি।
তবে এক্সচেঞ্জটি অপরিচালন খাতে, বিশেষ করে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থেকে প্রাপ্ত সুদ এবং বন্ডে বিনিয়োগ থেকে ভালো লাভ পাওয়ায় সামান্য মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
রোববার (০২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচিত অর্থবছরের এ আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে দেড় লাখ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে ডিএসইর লেনদেন কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ। আলোচিত অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটিতে প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৪৭২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে যা হয়েছিল ৬২২ কোটি টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে ডিএসইতে একদিনের সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১০ কোটি টাকা এবং সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে ১৫৯ কোটি টাকা।
ডিএসই সাধারণত লেনদেন ফি, তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে চার্জ, ডেটা বিক্রয়, লাইসেন্সিং ফি এবং প্রশিক্ষণ একাডেমির কার্যক্রম থেকে রাজস্ব আয় করে থাকে। লেনদেনে বড় ভাটা পড়ায় আলোচ্য অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএসইর মোট রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র ১০০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে যা হয়েছিল ১২৭ কোটি টাকা। বছরের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির রাজস্ব আয় কমেছে ২৭ কোটি টাকা বা প্রায় ২১ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএসইর পরিচালন লোকসান হয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির পরিচালন লোকসান হয়েছিল ২১ কোটি টাকা কম। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইর পরিচালন লোকসান বেড়েছে ২৮ কোটি টাকা বা ১৩৩ শতাংশ।
আলোচিত অর্থবছরে ডিএসইর অপরিচালন খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এফডিআরের সুদ ও বন্ডের বিনিয়োগ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা এবং ভবন ভাড়া দিয়ে আরও ১০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এই আয়ের সুবাদে আলোচিত অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটি ৩৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আগের অর্থবছরে যেখানে ডিএসইর নিট মুনাফা হয়েছিল ৬১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুনাফা কমেছে ৪৭ শতাংশ।
শুধু সর্বশেষ অর্থবছরেই নয়, ডিএসইর মুনাফা ২০২১-২২ অর্থবছরের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে কমছে। ওই অর্থবছরে করোনাকালীন মহামারির পরিস্থিতির মধ্যেও এক্সচেঞ্জটির ১২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল। পরের অর্থবছরে এই মুনাফা কমে ৮০ কোটি ৬০ লাখ হয়। সর্বশেষ দুই অর্থবছরে ডিএসইর মুনাফা আরও কমলো।
এ বিষয়ে ডিএসইর একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে পরিবর্তনের কারণে দেশের পুঁজিবাজার একটি অস্থির বছর অতিক্রম করেছে। পুরো অর্থবছরজুড়ে বাজারে লেনদেন নিম্নমুখী হওয়ায় ডিএসইর মূল ব্যবসায় বড় ভাটা পড়েছে। শেয়ার লেনদেন ফি থেকেই ডিএসইর মূল আয় হয়। মূল ব্যবসা কমায় সার্বিকভাবে ডিএসইর মুনাফাও কমেছে।’
এদিকে, সামান্য মুনাফা করায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিয়েছে ডিএসই। এ হিসাবে এক্সচেঞ্জটির মোট ১৮০ কোটি ৩৮ লাখ শেয়ারের বিপরীতে ৩৬ কোটি ৮ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করতে হবে।
Leave a Reply