নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নির্বাচন ঘিরে টানাপোড়েন আর ব্যাংক খাতের নানা অস্থিরতা ছাপিয়ে আমানত প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ধারা ফিরেছে। গত এক বছরে দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা, যার ফলে প্রবৃদ্ধি এখন দুই অঙ্কের ঘরে।
জানা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংক খাতে এই গতির সঞ্চার হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। যদিও ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে, তবুও তা দুই অঙ্কের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
ব্যাংকারদের মতে, গত বছর দীর্ঘ সময় আমানত প্রবৃদ্ধি কম থাকলেও এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংকে জমার পরিমাণও বেড়েছে। এ বিষয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ার পাশাপাশি গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগে স্থবিরতা ছিল। ফলে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে গ্রাহকেরা ব্যাংকেই টাকা রেখেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জানুয়ারিতে দেশে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আমানত বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে।
একই সঙ্গে ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের (কারেন্সি আউটসাইড ব্যাংক) পরিমাণও বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে ৮ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে ব্যাংক খাতে আমানতের এই ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৬৫৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। আগের বছর এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১১ কোটি মার্কিন ডলার।
Leave a Reply