1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
নতুন ঋণ পেতে রাজস্ব ও ব্যাংকিং সংস্কারে জোর আইএমএফের - Business Protidin
শিরোনাম :
নতুন ঋণ পেতে রাজস্ব ও ব্যাংকিং সংস্কারে জোর আইএমএফের ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তা-পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পিপলস লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদে আসতে চায় উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন এমডি আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদান শেখ হাসিনা পরিবারসহ ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: বিএফআইইউ পুরনো মালিকানায় ফিরছে আল-আরাফাজ ব্যাংক ব্যাংক থেকে মাসে ৩ বারের বেশি টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার সুপারিশ ডিএসইতে সুশাসন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আবেদন তিন মাসে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ২০১২ কোটি টাকা

নতুন ঋণ পেতে রাজস্ব ও ব্যাংকিং সংস্কারে জোর আইএমএফের

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈদেশিক চাপ বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এসব সংকট মোকাবিলায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, কঠোর মুদ্রানীতি এবং ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার ও সংস্কার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সরকারের অনুরোধে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফর করে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। আইএমএফ জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির আকার, ঋণের পরিমাণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো আগামী কয়েক মাসে আলোচনা হবে।

আইএমএফের কর্মকর্তা আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সফরের শেষদিন বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে আইএমএফ জানায়, এই তথ্য-সংগ্রহমূলক সফরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সম্ভাব্য আইএমএফ কর্মসূচির পরিধি, অর্থায়নের আকার এবং এর সঙ্গে যুক্ত সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

আইএমএফের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এসব চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্র করেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে দেশে আবারও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আগেই সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক খাতেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রয়েছে, তারপরও উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে বহিঃখাতের ভারসাম্য রক্ষায় চাপ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

আইএমএফ জানিয়েছে, এবারের আলোচনা ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ প্রতিবেদনে চিহ্নিত নীতিগত অগ্রাধিকারকে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর জন্য রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থা যৌক্তিক করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের প্রভাব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিময় হার আরও নমনীয় করা এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে সুশৃঙ্খলভাবে খাতটির দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে এবং বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মীদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।

আইএমএফের মতে, ব্যাংকিং খাতের চাপ, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক খাতের ঝুঁকি একে অপরকে আরও তীব্র করতে পারে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com