নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ইতিহাসে ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা প্রথমবারের মতো দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়াল। দেশের আর কোনো ব্যাংক এত মুনাফা করতে পারেনি। যা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিট মুনাফায় রেকর্ড।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গ্রাহকদের আস্থা, সুশৃঙ্খল করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং বিচক্ষণ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের নজির সৃষ্টি করলো ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবন রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জানা যায়, বিদায়ী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সমাপ্ত হিসাববছরের বছরে ব্যাংকটি সমন্বিতভাবে (সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ) ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছে।
ব্র্যাক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়েছে ৮১৯ কোটি টাকা বা ৫৭ শতাংশ।
শুধু এককভাবে ব্র্যাক ব্যাংক গত বছর মুনাফা করেছে ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির একক মুনাফা বেড়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা বা ৩০ শতাংশের বেশি।
আর সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এই মুনাফা ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রেকর্ড মুনাফার বছর শেষে ব্যাংকটি গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ মিলিয়ে মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর কথাও উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি। কঠোর ঋণ অনুমোদন নীতি ও নিবিড় তদারকির ফলে সম্পদের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে এবং খেলাপি ঋণের হার খাতের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
কি ধরণের ব্যবসা করে ব্র্যাক ব্যাংক: ব্র্যাক ব্যাংক মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) অর্থায়নে বিশেষায়িত একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। তবে এটি কর্পোরেট, রিটেইল, ট্রেজারি এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে কাজ করে। এসএমই খাতে প্রবৃদ্ধি এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিই এই ব্যাংকের মূল ব্যবসার ধরন।
Leave a Reply