নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত তিনটি ব্রোকারেজ হাউজের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনা, বিধি অনুসরণ এবং সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে ডিএসইকে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে এক চিঠিতে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শনের আওতায় থাকা ডিএসইর সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো— সুরমা সিকিউরিটিজ হোল্ডিং কোম্পানি লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১১১), গেটওয়ে ইক্যুইটি রিসোর্সেস লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৫৭) এবং সাবভ্যালি সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৬৮)।
মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও কমিশনের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পরই মূলত এই তদন্তমূলক উদ্যোগ। বিএসইসি পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ‘মার্জিন রুলস, ১৯৯৯’ এবং ২০২২ সালের ২০ মে জারি করা বিএসইসির নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। জানা যায়, চলতি বছরের ১১ মার্চ এ বিষয়ে বিএসইসির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছিল ডিএসই। সেখানে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর স্টক-ব্রোকার ও স্টক-ডিলার নিবন্ধন সনদ নবায়নের তথ্যের পাশাপাশি মার্জিন ঋণ পরিচালনায় বিভিন্ন অসংগতির উল্লেখ ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৭(১) অনুযায়ী কমিশনের এই পদক্ষেপ।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিএসইসির এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য— বাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এর অপব্যবহার বা নিয়ম লঙ্ঘন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও বিধিনিষেধ পরিপালন নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, মার্জিন লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম থাকলে তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বিনিয়োগকারী ও বাজার উভয়ের জন্য। পরিদর্শন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম চিহ্নিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
এর আগে গত এপ্রিলেও ১২টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল বিএসইসি। ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো— স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৫৬), জেকেসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৭৯), আহমেদ ইকবাল হাসান সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১১৪), মার্চেন্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৬৯), গ্লোব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৮৯), শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১২০), কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৮০), নিউ এরা সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৫০), আনোয়ার সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৬০), ট্রাস্টি সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৬২), ইউনিক্যাপ সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৬৩) এবং মোনা ফাইন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্র্যাক নম্বর-১৬৪)।
Leave a Reply