1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
জুনে ব্যাংকগুলোকে রেকর্ড চার লাখ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক - Business Protidin
শিরোনাম :
জীবন বীমা খাতে যুক্ত হলো শ্রীলঙ্কার সফটলজিক লাইফ কোম্পানি আমানত ফেরতের রোডম্যাপ চাইলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা আয় ও ব্যয়ে ৮ কোটি ১১ লাখ টাকা ঘাটতি রূপালি লাইফের জুনে ব্যাংকগুলোকে রেকর্ড চার লাখ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিধিমালার খসড়া প্রকাশ: তিন লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মিলবে না মার্জিন ঋণ শেকৃবির শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ন্যাশনাল লাইফের সাথে গ্রুপ বীমা চুক্তি মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনী প্রস্তাবে যা গুরুত্ব পাচ্ছে খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে ৬ মাসের আলটিমেটাম ব্যাংকিং কার্ড ছাড়ালো পাঁচ কোটি, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে শীর্ষে ডাচ্-বাংলা ও সিটি ব্যাংক শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ থাকা তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের কারখানা চালু

জুনে ব্যাংকগুলোকে রেকর্ড চার লাখ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: তারল্য সংকটের চাপ আরো বেড়েছে ব্যাংক খাতে। সে চাপ সামাল দিতে গত জুন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে চার লাখ ১০ হাজার ২০২ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংক রেপো, স্ট্যান্ডিং লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং স্পেশাল লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে এ অর্থ সরবরাহ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘মানি মার্কেট ডাইনামিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্বল ব্যাংকগুলো অনেক দিন ধরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তবে জুন মাসে ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে গ্রাহকদের ব্যাপক আমানত উত্তোলন পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। ফলে ব্যাংকটির তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে হয়েছে। এ কারণেই জুন মাসে তারল্য সহায়তার পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে এক লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে। মে মাসে এ ধারের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯ হাজার ১০ কোটি টাকা। একই সময়ে স্ট্যান্ডিং লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটির আওতায় দেওয়া হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা, যা আগের মাসে ছিল ৪৮ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। আর স্পেশাল লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটির আওতায় জুনে দেওয়া হয়েছে ৮০ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা, যা মে মাসে ছিল ৩৭ হাজার ৯৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আর্থিকভাবে তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকগুলো সাধারণত রেপোর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। অন্যদিকে তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো স্পেশাল লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটির ওপর বেশি নির্ভরশীল। গত চার বছরে ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংকসহ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো নিয়মিত এ সুবিধা নিচ্ছে। তবে এসব ঋণের মেয়াদ স্বল্প হওয়ায় বড় অংশই নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফেরত আসে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপোর মেয়াদ ১, ৭ ও ১৪ দিন। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নতুন করে রেপোতে ধার নেয়া যায়। বর্তমানে রেপোর সুদহার ১০ শতাংশ। আর স্পেশাল লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটিজের মেয়াদ একদিন। স্পেশাল লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটিজের সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। দৈনন্দিন লেনদেন শেষে কোনো ব্যাংক সিআরআর (আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা সংরক্ষণ) ঘাটতিতে পড়লে তবেই স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট নেয়।

তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো অর্থের জোগানের জন্য প্রথমে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি) যায়। সেখানে পর্যাপ্ত অর্থ না মিললে রেপোর মাধ্যমে মুদ্রাবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে ধার দেয়া ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রাখতে হয়। কলমানি কিংবা রেপোর মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে না পারলে তবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এক্ষেত্রে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোতে ধার নেওয়া হয়। দৈনন্দিন লেনদেন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত সিআরআর ঘাটতি দেখা দিলে স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট হিসেবে ব্যাংকগুলো অর্থ ধার করে। উভয় ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড, তথা সিকিউরিটি বন্ধক রাখতে হয়। আর স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটিজ দেওয়া হয় ব্যাংকগুলোর বিশেষ প্রয়োজনের মুহূর্তে।

তবে যেসব ব্যাংকের জামানত রেখে ধার নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই, সেসব ব্যাংকে ডিমান্ড প্রমিজরি (ডিপি) নোটের বিপরীতে তারল্য সহায়তা দিয়ে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পর্যন্ত এ মাধ্যমে ধার দেওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে গত জুন মাসে আন্তঃব্যাংক কলমানি বাজারেও লেনদেন বেড়েছে। ওই মাসে এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। মে মাসে এ পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। এছাড়া আন্তঃব্যাংক মার্কেটেও এক লাখ সাত হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com