বাণিজ্য ডেস্ক: ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়াতে এবার দেশটির স্থলপথে পণ্য পরিবহন সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এত দিন ইরানের সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক অবরোধের মাধ্যমে দেশটির বাণিজ্য ও জ্বালানি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছিল ওয়াশিংটন। এবার স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র, নিষিদ্ধ পণ্য এবং অর্থ স্থানান্তর বন্ধেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রায় ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত শনিবার এ উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। খবর আলজাজিরা ও রয়টার্সের।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত টাস্কফোর্সটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইরানের স্থলসীমান্ত এবং কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্য এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধ করাই হবে এর প্রধান লক্ষ্য।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, নতুন এই টাস্কফোর্স ইরানের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে চলমান অবরোধের সাফল্যকে আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ, সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় মজুত এবং অস্ত্র উৎপাদন কারখানা পুনর্গঠনের সক্ষমতা সীমিত করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ মূলত ইরানের ওপর চলমান অর্থনৈতিক অবরোধের বিস্তৃত রূপ। এর আগে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে দেশটির সমুদ্রপথের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন। সেন্টকমের দাবি, এই অবরোধের কারণে ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেও ইরান বিভিন্ন গোপন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম আমদানি অব্যাহত রেখেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ ধরনের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব পণ্য পরিবহনে রাশিয়ার জাহাজ, মধ্য এশিয়ার ট্রাক এবং চীনের কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহারের তথ্যও উঠে এসেছে।
এদিকে স্থলপথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হলে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির সমুদ্রপথের বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে স্থলসীমান্তনির্ভরতা বেড়েছে। বিশেষ করে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থলপথে অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে। তাঁর দাবি, ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথের পাশাপাশি স্থলবাণিজ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ইরানের অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
Leave a Reply