1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
দুর্বল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা নিয়ে আপত্তি আইএমএফের - Business Protidin

দুর্বল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা নিয়ে আপত্তি আইএমএফের

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধুঁকছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক। তারল্য সংকটে ধুঁকতে থাকা দুর্বল এসব ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে টাকা ছাপিয়ে তারল্য সহায়তা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কথা ছিল ধারের টাকা ৯০ দিনের মধ্যে শোধ করবে ব্যাংকগুলো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এক টাকাও ফেরত দেয়নি তারা। এমন পরিস্থিতিতে কিছু দুর্বল ব্যাংককে দেওয়া তারল্য সহায়তা নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে ঢাকায় সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদল।

সোমবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সহায়তাসহ নানা বিষয়ে জানতে চান আইএমএফ মিশনের সদস্যরা। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক খাতের ওপর গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে দুর্বল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে আইএমএফ। এবার সংস্থাটির কর্মকর্তারা তারল্য সহায়তা নেওয়া ব্যাংকগুলোর উন্নতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তেমন কোনো আশা দেখাতে পারেননি কর্মকর্তারা। এ সময় আইএমএফ মিশন পরবর্তী করণীয় নিয়ে রোডম্যাপ জানতে চায়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এই ব্যাংকগুলোর অবস্থার উন্নতি ঘটাতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কয়েকটি ব্যাংককে গ্যারান্টির বদলে সরাসরি টাকা ছাপিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। তারপরও যদি উন্নতি না হয় তবে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হবে। সে পদক্ষেপেও দৃশ্যমান কোনো উন্নতি না ঘটলে ব্রিজ করে ব্যাংকগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার নাম করে কলমানিতে বিনিয়োগ করেছে বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। কেউ কেউ নিজেদের বেতন-ভাতার কাজেও তারল্য সহায়তার টাকা ব্যয় করেছে। এসব বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। তবে আইএমএফকে বিষয়গুলো জানানো হয়নি।

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে তা সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে, যা গত সেপ্টেম্বর শেষে ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। আর আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত ছিল সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার ২০২৬ সালের মধ্যে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। আর বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপির হার হবে ৫ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ৪২ দশমিক ৮৩ শতাংশই খেলাপি। আর বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আইএমএফ আমাদের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে প্রশংসা করেছে। আমরা দ্রুতই আর্থিক খাতের সংস্কার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইন্ডিকেটর সম্পর্কেও তারা আলোচনা করেছে। সংস্থাটির সঙ্গে সর্বশেষ মিটিংয়ের পরই বিস্তারিত জানানো হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com