নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে দায়িত্বে থাকা ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও এমডিদের বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি ছয়টি এবং বেসরকারি খাতের ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য তলব শুরু করছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এসব ব্যাংকে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে।
একই সঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে হাসিনা সরকারের পতনের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সব গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানরা তদন্তের আওতায় এসেছেন।
সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে এসব কর্মকর্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
তাদের দায়িত্বের সময়কাল বিবেচনা করা হয়েছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ড. ফজলে কবির ও আবদুর রউফ তালুকদার এবং ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুদক।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ তালিকায় সরকারি ব্যাংক রয়েছে সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী, বেসিক ও বিডিবিএল। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, আইএফআইসি, ইউসিবি, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আল-আরাফাহ্ ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, ন্যাশনাল, এনআরবি, এনআরবি গ্লোবাল, মেঘনা, বাংলাদেশ কমার্স, প্রিমিয়ার, পদ্মা, এবি এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা পরিচালক ও এমডি ছিলেন, তাদের বেশির ভাগই এখন দায়িত্বে নেই।
সম্প্রতি সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার হয়েছে। এ কারণে কোনো কোনো ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি শুনেছেন, একটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৫ শতাংশ।
Leave a Reply