নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকের পাশাপাশি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) খেলাপি ঋণের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৭ দশমিক ১১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণ বিতরণ ছিল ৭৯ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। তিন মাস আগে, গত জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা তখন মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।
বর্তমানে দেশে কার্যরত ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টির ঋণের ৫০ থেকে ৯৯ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আমানতকারীদের মূল টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ডিসেম্বরভিত্তিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল অবস্থার আভাস বেশ আগেই পাওয়া যাচ্ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসতে শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
এক বছর আগে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দেখানো হয়েছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা ছিল মোট ঋণের ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান—উভয় খাতেই খেলাপি ঋণের এমন ঊর্ধ্বগতি সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
Leave a Reply