1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
মজুত ফুরিয়ে আসছে অকটেন-পেট্রোলের - Business Protidin

মজুত ফুরিয়ে আসছে অকটেন-পেট্রোলের

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো তেল দিতে না পারায় দেশের জ্বালানির মজুতে টান পড়তে শুরু করেছে।

একদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপ, অন্যদিকে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় কনডেনসেট সংকট এবং বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি- সব মিলিয়ে চরম জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়।

দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডিজেলের মজুত ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সেই হিসেবে মাসিক চাহিদা ৩ লাখ ৬০ হাজার টন এবং দৈনিক গড় চাহিদা ১২ হাজার টন

অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ভারত ও চীন থেকে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে বাংলাদেশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহকারী এই রিফাইনারিগুলোও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ভারত ও চীনের এসব রিফাইনারির একটি বড় অংশ ইরান থেকে স্বল্পমূল্যে তেল আমদানি করে। এরপর পরিশোধন করে তারা বাংলাদেশে সরবরাহ করে।

বর্তমান মজুত পরিস্থিতি কী?

বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডিজেলের মজুত ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সেই হিসেবে মাসিক চাহিদা ৩ লাখ ৬০ হাজার টন এবং দৈনিক গড় চাহিদা ১২ হাজার টন।

চলতি মার্চ মাসে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ টনে দাঁড়িয়েছে। গত ২১ মার্চ পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৯ টন ডিজেল মজুত ছিল। দৈনিক ১২ হাজার ৭৭৭ টন সরবরাহ অনুযায়ী বর্তমানে এই মজুতে আর মাত্র ১২ দিন চলা সম্ভব।

অন্যদিকে, দেশে অকটেনের মজুত সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। মার্চ মাসে এর গড় চাহিদা ছিল ৩৬ হাজার ৭০০ টন। বর্তমানে অকটেনের মজুত ৯ হাজার ৮২৯ টনে নেমে এসেছে। দৈনিক ১ হাজার ১৯৩ টন সরবরাহ বিবেচনায় দেশে এখন মাত্র ৮ দিনের অকটেন মজুত রয়েছে।

গত এক বছরে দেশে গ্যাসের সামগ্রিক উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মালিকানাধীন ২২টি গ্যাসফিল্ড থেকে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এমনকি দেশের বৃহত্তম গ্যাসফিল্ড তিতাসের ২৬টি কূপ থেকে এ বছর দৈনিক ৩১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, গত বছর যা ছিল ৩৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট

দেশে পেট্রোলের মজুত সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। চলতি মার্চ মাসে পণ্যটির গড় চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ১০০ টনে। বর্তমানে পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ২২৫ টন। দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৪৯৬ টন সরবরাহ বিবেচনায় এই মজুতে আর মাত্র ১১ দিন চলা যাবে।

অন্যান্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের মজুত সক্ষমতা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৯ টন। বর্তমানে দেশে ৪৪ হাজার ৪১৪ টন ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে। দৈনিক ২ হাজার ৪১৯ টন সরবরাহ অনুযায়ী এই মজুতে আগামী ১৮ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের মজুত সক্ষমতা রয়েছে ৬৪ হাজার ১১৮ টন। বর্তমানে দেশে জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৩৬ হাজার ৬৬১ টন। দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৫৪৭ টন চাহিদা অনুযায়ী, এই মজুতে আগামী ২৪ দিন পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।

দেশেই উৎপাদন, তবুও পেট্রোল-অকটেনের সংকট কেন?

অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের পাশাপাশি দেশে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনের একটি অন্যতম প্রধান উৎস হলো কনডেনসেট। প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে এই তরল হাইড্রোকার্বন পাওয়া যায়। বিগত অর্থবছরে পেট্রোবাংলা বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭২ টন কনডেনসেট সংগ্রহ ও পরিশোধন করেছে।

অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদনের উৎস মূলত দুটি, রিফাইনারি ও কনডেনসেট। এখন খতিয়ে দেখা দরকার কোন উৎস থেকে ঠিক কতটুকু তেল পাওয়া যাচ্ছে। অতীতে এই খাতে কখনো এমন ঘাটতি দেখা যায়নি। তাহলে এখন কেন হচ্ছে? কনডেনসেটের একটি অংশ বেসরকারি কোম্পানিগুলো আমদানি করে থাকে। তারা কোনো সিন্ডিকেট বা বাজার ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করছে কি না, সরকারের তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যার পুরোটিই অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করা হয়েছে। একইভাবে, দেশের চারটি বেসরকারি সিআরইউ প্ল্যান্ট (কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিট) এবং সিলেটের হবিগঞ্জে পেট্রোবাংলার নিজস্ব সিআরইউ প্ল্যান্টে কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে অকটেন উৎপাদন করা হয়। এই শোধনাগারগুলো তাদের উৎপাদিত তেল সরাসরি বিপিসির বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ করে।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অকটেনের ৪ লাখ ১৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে বিপিসিকে বিদেশ থেকে ‘৯৫ রন’ (95 RON) মানের পরিশোধিত অকটেন আমদানি করতে হয়। গত অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ টন এমন অকটেন আমদানি করেছে বিপিসি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি যেসব নির্দেশনা
দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার আহ্বান
দেশে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেনের এই ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করছে বিপিসি। সাধারণত গ্যাস উত্তোলন কমলে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট উত্তোলনও হ্রাস পায়।

ডিপো থেকে পাম্পগুলো চাহিদামাফিক তেল সরবরাহ পাচ্ছে না। পেট্রোল ও অকটেন দেশেই উৎপাদিত পণ্য। তাই এর কৃত্রিম সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূলত আগামী মাসের ১ তারিখে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে, এমন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি সিআরইউগুলো (কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিট) বিপিসিকে তেল দিচ্ছে না। ফলে এই সংকট বাড়ছে

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশে গ্যাসের সামগ্রিক উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মালিকানাধীন ২২টি গ্যাসফিল্ড থেকে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এমনকি দেশের বৃহত্তম গ্যাসফিল্ড তিতাসের ২৬টি কূপ থেকে এ বছর দৈনিক ৩১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, গত বছর যা ছিল ৩৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট।

এ ছাড়া পেট্রোল-অকটেনের এই মুহূর্তের সংকটের নেপথ্যে সিন্ডিকেটের কারসাজিকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন বলেন, অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদনের উৎস মূলত দুটি, রিফাইনারি ও কনডেনসেট। এখন খতিয়ে দেখা দরকার কোন উৎস থেকে ঠিক কতটুকু তেল পাওয়া যাচ্ছে। অতীতে এই খাতে কখনো এমন ঘাটতি দেখা যায়নি। তাহলে এখন কেন হচ্ছে? কনডেনসেটের একটি অংশ বেসরকারি কোম্পানিগুলো আমদানি করে থাকে। তারা কোনো সিন্ডিকেট বা বাজার ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করছে কি না, সরকারের তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম অভিযোগ করে বলেন, ডিপো থেকে পাম্পগুলো চাহিদামাফিক তেল সরবরাহ পাচ্ছে না। পেট্রোল ও অকটেন দেশেই উৎপাদিত পণ্য। তাই এর কৃত্রিম সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূলত আগামী মাসের ১ তারিখে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে, এমন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি সিআরইউগুলো (কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিট) বিপিসিকে তেল দিচ্ছে না। ফলে এই সংকট বাড়ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com