1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
একীভূত পাঁচ ব্যাংক ফিরে পাচ্ছেন আগের মালিকরা - Business Protidin

একীভূত পাঁচ ব্যাংক ফিরে পাচ্ছেন আগের মালিকরা

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতে বড় পরিবর্তন এনে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’। নতুন এই আইনের ফলে একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন আগের শেয়ারহোল্ডাররা। এতে করে এস আলম ও নাসা গ্রুপের মতো পূর্বতন নিয়ন্ত্রকদের জন্যও পথ খুলে গেল।

এর আগে ২০২৫ সালের ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশে ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ ছিল না। নতুন আইনে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো তফসিলি ব্যাংক রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় গেলে আগের শেয়ারধারক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় উপযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আবারও ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এ জন্য তাদের একটি বিস্তারিত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। এতে সরকারি বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া আর্থিক সহায়তা ফেরত দেওয়া, নতুন মূলধন জোগান, মূলধন ঘাটতি পূরণ, আমানতকারী ও পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ, কর-রাজস্ব ও ক্ষতিপূরণ মেটানো এবং সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
আবেদন অনুমোদনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে সরকারের সম্মতি নেবে।

নতুন বিধানে মালিকানা ফিরে পেতে হলে প্রথমে সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থের অন্তত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমা দিতে হবে। বাকি ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।

পুনর্গঠিত ব্যাংকগুলো দুই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে থাকবে। এরপর একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দেখা হবে শর্তগুলো ঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না। কোনো ব্যর্থতা ধরা পড়লে অনুমতি বাতিলও হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, অল্প অর্থ জমা ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ ঝুঁকিপূর্ণ। এতে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং দায়ী ব্যক্তিরা সহজেই দায় এড়াতে পারেন।

২০২৫ সালের মে মাসে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। ওই অধ্যাদেশ ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়।

এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি অংশ আমানতকারীদের মধ্যে শেয়ার হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ ধাপে ধাপে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম চালু করেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ পাঁচটিসহ ডজনখানেক ব্যাংকে অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিএফআইইউয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। বর্তমানে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির তালিকায় এই গ্রুপের ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com