নিজস্ব প্রতিবেদক: খেলাপি ঋণের বোঝায় জর্জরিত সাউথইস্ট ব্যাংক। মাত্র কয়েকজন বড় গ্রাহকের কাছে ঋণের বিশাল অংশ আটকে যাওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক ভিত ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ব্যাংকটির মোট ২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের প্রায় ৭১ শতাংশই ১০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের পকেটে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা।
জানা যায়, প্রভাবশালী এসব গ্রাহকের থেকে টাকা আদায় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। শীর্ষ খেলাপিদের কেউ এখন কারাবন্দী, কেউবা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ফলে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ আদায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শীর্ষ ১০ খেলাপির তালিকায় সবার ওপরে আছে কেয়া গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ। এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছেই ব্যাংকটির পাওনা প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। একসময় সাবান ও প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবসায় সফল হওয়া কেয়া গ্রুপ গার্মেন্টস খাতে বিনিয়োগ করে বড় ধাক্কা খায়। বর্তমানে তাদের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯৮ কোটি টাকা।
অভিযোগ আছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই কেয়া গ্রুপকে এসব ঋণ দেওয়া হয়েছিল। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইতিমধ্যে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক পাঠানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৭৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া ফার সিরামিকসের ৩৩৮ কোটি ও পদ্মা পলি কটনের ১৭১ কোটি টাকাসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে।
সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খালিদ মাহমুদ খান বলেন, আমরা সব পর্যায় থেকে চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে অনেক কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেমন এস আলম গ্রুপ পালিয়ে গেছে, নাসা গ্রুপের মালিক জেলে। আমরা নাসা গ্রুপের শেয়ার বিক্রি করে কিছু টাকা সমন্বয়ের চেষ্টা করছি। তবে এস আলমের টাকা আদায় করা হয়তো সম্ভব হবে না।
খালিদ মাহমুদ খান বলেন, রূপায়ণ গ্রুপের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণ নিয়মিত করেছে এবং গাজী গ্রুপের সঙ্গেও পাওনা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সাউথইস্ট ব্যাংকের ঋণের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যাংকটির সিংহভাগ ঋণই গুটিকয়েক বড় গ্রুপের হাতে বন্দি। মোট ৩৭ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৫৭ শতাংশেরও বেশি টাকা নিয়েছেন মাত্র ২০ জন গ্রাহক।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি ঋণ বসুন্ধরা গ্রুপের (৩ হাজার ২৮১ কোটি টাকা)। এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপ, স্প্যারো ক্রাউন, স্নোটেক্স ও আবুল খায়ের গ্রুপের মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও ব্যাংকটির বিপুল অংকের ঋণ রয়েছে। সূত্র: আমার দেশ।
Leave a Reply