1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
মুনাফা কমেছে গ্রামীণফোনের, বেড়েছে রবির! - Business Protidin
শিরোনাম :
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক মুনাফা কমেছে গ্রামীণফোনের, বেড়েছে রবির! টাকা উত্তোলনের চাপ সামলাতে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে পাবে ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা সাত দিনে চার হাজার কোটি টাকার আমানত হারালো ইসলামী ব্যাংক যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ, শিগগির দেশে আনা হবে: গভর্নর ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, মঙ্গলবার কার্যকর সচেতনতা বৃদ্ধি ও বীমা শিল্প বিকাশে আমাদের করণীয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ আমানত হারানো আতঙ্কে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক

মুনাফা কমেছে গ্রামীণফোনের, বেড়েছে রবির!

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও শীর্ষ টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের আয় ও মুনাফা দুটোই কমেছে ২০২৫ সালে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রবি আজিয়াটার আয় ও মুনাফা বেড়েছে।

কোম্পানি দুটির আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, গত বছর গ্রামীণফোনের আয় এর আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে রবির আয় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ এবং মুনাফা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

গ্রাহকসংখ্যার ওঠানামায় আয়-মুনাফায় এই পার্থক্য। বছর শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকসংখ্যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮ কোটি ৩৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর একটি নতুন নিয়মের জন্য তাদের গ্রাহক কমেছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সিমের নিবন্ধনসীমা ১৫টি থেকে কমিয়ে ১০টি করেছে। এর ফলে গ্রাহকদের বাড়তি সিমগুলো বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, এই নিয়মের কারণে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

সাংবাদিকদের দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের টেলিকম বাজারের প্রায় ৪৫ শতাংশ জিপির দখলে। তাই নিয়ম পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব জিপির ওপর পড়াটাই স্বাভাবিক।

বছর শেষে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮৭ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৫৮ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ফোর-জি ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে রবির সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৪ কোটি ৪৫ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এদের মধ্যে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ফোর-জি গ্রাহক।

সাধারণত গ্রাহক ও তাদের খরচ বাড়লে কোম্পানির আয় ও মুনাফা বাড়ে। আর গ্রাহকসংখ্যা কমে গেলে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রবি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিম নিবন্ধনের নিয়ম পরিবর্তনের পর বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে, গ্রাহক বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন। এ ছাড়া তাদের ইন্টারনেট গ্রাহক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে।

খরচের ধরনেও দেখা গেছে ভিন্নতা। গ্রামীণফোনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়েস ও ডেটা (ইন্টারনেট) থেকে আয় কমে যাওয়ায় গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫৫ টাকা থেকে কমে ১৫১ টাকায় নেমেছে।

অন্যদিকে রবির গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪৫ দশমিক ৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মূলত ডেটা থেকে বেশি আয় এবং গ্রাহকদের প্যাকেজ বা অফার পরিবর্তনের ফলেই এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা তানভীর বলেন, মূল্যস্ফীতির টানা চাপ এবং খরচের ব্যাপারে গ্রাহকদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় মোবাইল ব্যবহার কমেছে। ফলে আয়ও কমেছে।

তবে তিনি জানান, গ্রামীণফোনের গ্রাহকেরা অপেক্ষাকৃত বেশি পুরোনো ও দামি প্যাকেজ ব্যবহার করেন। গ্রাহক ধরে রাখা এবং তাদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় স্বল্পমেয়াদে আয় ও মুনাফার ওঠানামা হতে পারে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকপ্রতি আয় বাড়ানোর চেয়ে জিপি সব সময় নেটওয়ার্কের মান, ডিজিটাল সেবা এবং যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখার মাধ্যমে গ্রাহক সম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দেয়।

কমেছে ভয়েস কল-

উভয় অপারেটরেই গ্রাহকদের ভয়েস কল বা কথা বলার হার কমেছে, তবে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলক বেশি। জিপির গ্রাহকপ্রতি গড় কথা বলার সময় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৬২ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির ক্ষেত্রে এই হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৪১ মিনিটে নেমেছে।

গ্রামীণফোন ও রবির প্রবৃদ্ধির এই পার্থক্য নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রবির আয় মূলত ডেটানির্ভর। বাজারে ডেটার ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে ভয়েস কল কমছে। এর ফলে তাদের আয় বেড়েছে।

তারা বলেন, রবির আয় বাড়লেও সেই তুলনায় তাদের মুনাফা এখনো বেশ কম, যেখানে গ্রামীণফোনের মুনাফা অনেক বেশি। এর মানে হলো, রবি তাদের পরিচালন দক্ষতায় সামান্য উন্নতি করলে তাদের মুনাফাও অনেকটা বাড়বে।

আয় ও মুনাফা কমলেও আর্থিক সূচকগুলোতে গ্রামীণফোন এখনো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। জিপির মুনাফার হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে রবির ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। জিপির রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ৪৯ শতাংশ, আর রবির ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য জিপির ৪১ দশমিক ৪৯ টাকা, যেখানে রবির ১৩ দশমিক ৩৪ টাকা। তথ্য সূত্র: ডেইলি স্টার।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com