বাণিজ্য ডেস্ক: ভারতের শেয়ারবাজারে চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে আসছে দেশটির বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। প্রায় ১১ হাজার ৬৯৩ কোটি রুপি সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে আসা এই আইপিওকে ২০২৬ সালের ভারতের অন্যতম বৃহৎ শেয়ার ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বড় আকারের ইস্যুর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী ব্যবসায়িক ভিত্তি ও বাজারে নেতৃত্বের অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কোম্পানিটির আইপিওর প্রতি শেয়ারের মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪৫ থেকে ৫৭৪ রুপি। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) ১ রুপি। আগামী ১৩ জুলাই অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১৪ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ জুলাই শেয়ার বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে। বরাদ্দ না পাওয়া আবেদনকারীদের অর্থ ফেরত এবং সফল আবেদনকারীদের বিও (ডিম্যাট) হিসাবে শেয়ার জমা হবে ২০ জুলাই। এরপর ২১ জুলাই ভারতের শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এটি সম্পূর্ণ অফার ফর সেল (OFS) ভিত্তিক আইপিও। অর্থাৎ কোম্পানির কাছে নতুন মূলধন যাবে না; বিদ্যমান উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডাররা তাদের মালিকানার একটি অংশ বিক্রি করবেন। আইপিওর মাধ্যমে মোট ৬.৩ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হবে।
বর্তমানে কোম্পানিটির প্রায় ৯৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক দুটি প্রতিষ্ঠান—স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং ফরাসি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আমোন্ডি ইন্ডিয়া। এর মধ্যে এসবিআই প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ শেয়ার এবং আমুন্ডি ইন্ডিয়া প্রায় ৭ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার বিক্রি করবে। আইপিও-পরবর্তী সময়েও উভয় প্রতিষ্ঠানই কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তালিকাভুক্তির দিন কোম্পানিটির বাজার মূলধন ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি রুপির বেশি হতে পারে। ফলে এটি ভারতের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বৃহৎ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর অন্যতম হয়ে উঠবে।
১৯৮৭ সালের জুনে যাত্রা শুরু করা এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট বর্তমানে ভারতের অন্যতম বৃহৎ সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান। এটি এসবিআই মিউচ্যুয়াল ফন্ড পরিচালনা করে এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও ইনডেক্স ফান্ড ব্যবস্থাপনায় দেশের সবচেয়ে বড় প্যাসিভ অ্যাসেট ম্যানেজার হিসেবে সুপরিচিত। দীর্ঘদিনের বাজার অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং ব্যাপক গ্রাহকভিত্তির কারণে প্রতিষ্ঠানটির আইপিওকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, আইপিওটি শুধু আকারের দিক থেকেই নয়, ভারতের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ওপর আস্থারও প্রতিফলন। তাই তালিকাভুক্তির পর শেয়ারটির পারফরম্যান্সের দিকে দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীরই বিশেষ নজর থাকবে।
Leave a Reply