নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নিয়োগে সাত ধরনের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার যেকোনো একটি থাকা বাধ্যতামূলক করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। একই সঙ্গে সিএফও নিয়োগের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এসব যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) জারি করা জিএডি সার্কুলার নম্বর ২১/২০২৬-এ এ নির্দেশনা দিয়েছে আইডিআরএ। জনস্বার্থে জারি করা সার্কুলারটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আইডিআরএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বীমা কোম্পানির আর্থিক সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যোগ্য ও পেশাদার সিএফও নিয়োগ দিতে হবে। এ জন্য নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের আবেদন করতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই নিয়োগ কার্যকর হবে।
সাত ধরনের যোগ্যতা
সার্কুলারে সিএফও পদে নিয়োগের জন্য সাত ধরনের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর যেকোনো একটি থাকতে হবে।
যোগ্যতাগুলো হলো—বাংলাদেশের চার্টার্ড হিসাববিদদের ইনস্টিটিউটের (আইসিএবি) ফেলো বা সহযোগী সদস্য; ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের চার্টার্ড হিসাববিদদের ইনস্টিটিউটের ফেলো বা সহযোগী সদস্য; যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার সনদপ্রাপ্ত জন হিসাববিদ; যুক্তরাজ্যের অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (এসিসিএ) ফেলো বা সহযোগী সদস্য; বাংলাদেশের কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইনস্টিটিউটের (আইসিএমএবি) ফেলো বা সহযোগী সদস্য; যুক্তরাষ্ট্রের চার্টার্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) সনদধারী; অথবা বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোনো দেশ থেকে হিসাববিজ্ঞানে পেশাগত সনদধারী। তবে শেষের ক্ষেত্রে সনদটি আইসিএবি অথবা আইসিএমএবি কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে।
বর্তমান সিএফওদের জন্যও নির্দেশনা
আইডিআরএর সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত সিএফওদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত যোগ্যতা প্রযোজ্য হবে। যোগ্যতা পূরণকারী কর্মকর্তাদের আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে।
অন্যদিকে, কোনো বীমা কোম্পানির বর্তমান সিএফওর নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে একই সময়সীমার মধ্যে যোগ্যতাসম্পন্ন উপযুক্ত ব্যক্তিকে ওই পদে নিয়োগ দিতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০-এর ধারা ৫৬(গ) অনুযায়ী বীমা খাতের উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বের অংশ হিসেবে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
Leave a Reply