1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ - Business Protidin
শিরোনাম :
প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত দেশে সরকারি ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ কার্যক্রম শুরু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্ষুদ্র ঋণ ব্যাংক’ গঠনের উদ্যাগ সরকারের পঞ্চমবারের মতো সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন সোনালী লাইফের বেতন কমছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ কর্মীদের ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি হতে লাগবে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা লাভেলো আইসক্রিমের এমডির পরিবারসহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা ও সফলতার মৌলিক ভিত্তি: আমির খসরু দারিদ্র্যসীমার নিচে যাওয়ার ঝুঁকিতে দেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে একীভূতকরণের আওতায় আসা পাঁচ ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী মালিক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ, বিনিয়োগ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “ব্যাংকগুলো একসময় ভালো অবস্থায় ছিল, কিন্তু গত কয়েক বছরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেগুলোকে দুরাবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদে কারা দায়িত্বে ছিলেন, তা খুঁজে বের করা হবে। যদিও এটি সময়সাপেক্ষ, তবুও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, নতুন ব্যাংকের মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার এবং ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে রূপান্তর করা হবে। নতুন ব্যাংকের চেয়ারপারসন হবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।

পাঁচ ব্যাংকের মালিকানা ও নেতৃত্বের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) তৎকালীন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চারটি ব্যাংক চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। উভয়েই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন সাইফুল আলম নিজেই। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন প্রবাসী নিজাম চৌধুরী, আর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ছিলেন এস আলমের আত্মীয় ও কর্মচারী। ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রথমে ছিলেন এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম, পরে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান করা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সেলিম উদ্দিনকে।

একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। তার বিপরীতে ব্যাংক পাঁচটির সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা ৭৬ শতাংশ এখন খেলাপি।

সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০ শাখা, ৬৯৮ উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি ইউনিয়ন ব্যাংকের। এছাড়া, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ, এসআইবিএলের ৬২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

গত ৯ অক্টোবর সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত হয়।

গত ৫ ন‌ভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, একীভূতকর‌ণের বিষয়টি এতো‌দিন কাগ‌জে-কল‌মে ছিল। আজ আনুষ্ঠা‌নিক যাত্র শু‌রু করল। বাংলা‌দেশ ব্যাংক পাঁচ‌টি ব্যাংককে চি‌ঠি দিয়ে‌ জা‌নি‌য়ে দিয়েছে যে তারা অকার্যকর। পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দিয়েছে। এখন ব্যাংকগুলো পরিচালনার জন্য প্রত্যেক ব্যাংকের একজন ক‌রে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। প্রশাসকের স‌ঙ্গে সহ‌যোগীও দেওয়া হ‌চ্ছে।

গভর্নর বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সরকারি ব্যাংক হলেও এটি বেসরকারি ব্যাংকের মতোই পরিচালিত হবে। ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে, গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। আগের নামেই ব্যাংকগুলোতে পেমেন্ট, আমদানি-রপ্তানির এলসি খোলা যাবে, আমানত ও চেক নিষ্পত্তি হবে এবং রেমিট্যান্স কার্যক্রম আগের মতোই সচল থাকবে।

একীভূত করতে পাঁচ ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের দায়িত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক সালাহ উদ্দিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে পরিচালক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com