1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
রিজার্ভ চুরি তদন্তে আতিউরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তা শনাক্ত - Business Protidin
শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ন্যাশনাল লাইফের আলোচনা সভা অবৈধভাবে নতুন নোট বেচাকেনা: বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশ বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরডি ফুডের উদ্যোক্তার সব শেয়ার বিক্রির ঘোষণা রিজার্ভ চুরি তদন্তে আতিউরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তা শনাক্ত জ্বালানি তেল কিনতে লম্বা লাইন, বন্ধ পাম্পেও অপেক্ষা মধ্যপাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে: বিএবি চেয়ারম্যান বিশ্বের অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে: ডিসিসিআই সভাপতি খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৩০ শতাংশ শেয়ারবাজারে কারসাজি: ১৪৮৮ কোটি টাকা জরিমানা, আদায় মাত্র ৫ কোটি যুদ্ধের প্রভাবে শেয়ারবাজারে বড় পতন

রিজার্ভ চুরি তদন্তে আতিউরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তা শনাক্ত

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ছয় দেশের অন্তত ৭০ জনের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। বাকিরা বিদেশি নাগরিক।

আন্তর্জাতিক এই অপরাধে জড়িত বিদেশিদের চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তারা বাংলাদেশেও একটি ছায়া তদন্ত চালায়। সম্প্রতি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে ৪০০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক তদন্তের বিভিন্ন বাধা দূর করতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হলেও অর্থটি রাখা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে। এর আগে জাপান ও ফিলিপাইনও এমএলএআরের মাধ্যমে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশকে দেয়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিতদের মধ্যে ৪০ জন ফিলিপাইনের নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে আরও রয়েছেন উত্তর কোরিয়া, চীন, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের নাগরিক। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, আইসিটি আইন ও ফৌজদারি আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে। সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানের বিরুদ্ধেও অন্তত দুটি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

তবে মামলার অভিযোগপত্র কবে দেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ পর্যন্ত অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় পিছিয়েছে ৯৩ বার। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি মার্কিন আদালতে চলমান মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার মামলায় অভিযোগপত্র না দেওয়ার সুপারিশ করেছে। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়: এ ঘটনায় সিআইডি এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তে তাদের মধ্যে তিন ধরনের ভূমিকা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন অন্তত ১০ কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রথমত, রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবস্থা সরাসরি সুইফট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত। তদন্তে বলা হয়েছে, ঝুঁকি বিবেচনা না করেই এ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সুইফট সার্ভার অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ব্যবস্থা। তারপরও তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান ওই সার্ভারের সঙ্গে আরটিজিএস সিস্টেম সংযুক্ত করার অনুমোদন দেন।

সিআইডির মতে, এই সিদ্ধান্ত অপরাধমূলক অবহেলার শামিল। রিজার্ভ হ্যাক হওয়ার পর বিষয়টি কয়েক দিন গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে।

তৃতীয়ত, ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো ম্যালওয়্যার যাচাই না করেই ডাউনলোড করার ঘটনাও তদন্তে এসেছে। এ ক্ষেত্রে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঘটনার পর প্রযুক্তিগত কিছু ক্লুও সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ, আইটি অপারেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ এবং ব্যাক অফিস অব দ্য ডিলিংস রুমে কর্মরত ছিলেন।

মার্কিন প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাতের পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এতে দেখা যায়, কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।

প্রতিবেদনে চারটি ক্যাসিনোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। এগুলো হলো—ফিলরেম, ইস্টার্ন হাওয়াই, মিডাস ও সোলাইয়ার। ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট হয়ে অর্থ এসব ক্যাসিনোতে যায়।

মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রসমর্থিত সাইবার গ্রুপ লাজারাস (এপিটি৩৮)। এই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তর কোরিয়ার নাগরিক পার্ক জিন ইউক।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তে অনেক সময় এক দেশের গোয়েন্দা সংস্থা অন্য দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে। তবে এমএলএআর প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য না এলে তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় না। কয়েক বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া এ প্রতিবেদন এখন বাংলাদেশের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, “মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। কারা কীভাবে জড়িত, তা বের করা গেছে। বিদেশে পাঠানো চিঠির জবাবও পাওয়া গেছে।”

রিজার্ভ চুরির ঘটনা: ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৮১০ কোটি টাকা চুরি হয়। সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও হংকংয়ে এমএলএআর পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে চীন, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও হংকং এখনো সাড়া দেয়নি।

২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) ও কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহীর বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রক্রিয়ায় ফিলিপাইন থেকে ১৪ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার এবং শ্রীলঙ্কা থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার ফেরত এসেছে। বাকি অর্থ এখনো উদ্ধার হয়নি।

ঘটনার ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। গত বছরের জানুয়ারিতে মামলাটির তদন্তভার নিতে চেয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে তারা সিআইডিকে চিঠিও দেয়। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্তভার হস্তান্তরে রাজি হয়নি।

পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মার্চে রিজার্ভ চুরির ঘটনা পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে একাধিক উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

কমিটিকে ঘটনার অগ্রগতি পর্যালোচনা, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছিল। কমিটি মত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মামলার রায় হওয়ার পর ঢাকার মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া উচিত।

পর্যালোচনা কমিটির সাচিবিক দায়িত্বে থাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, তাদের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। সূত্র: সমকাল।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com