1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
একীভূত পাঁচ ব্যাংকে আটকে থাকা অর্থে প্রভিশনে থাকছে না বাধ্যবাধকতা - Business Protidin

একীভূত পাঁচ ব্যাংকে আটকে থাকা অর্থে প্রভিশনে থাকছে না বাধ্যবাধকতা

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বা একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ একীভূত ব্যাংকে রয়েছে, তাদের প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের আমানত একীভূত ব্যাংকে রয়েছে। এসব অর্থ সেসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ, তাই এসব বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। আর্থিক সংকটের কারণে এসব ব্যাংককে একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অভ ব্যাংকসের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। ওই সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে এসব ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং আমানতকারীদের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জমা ও ঋণের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে শুরুতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

তবে পরে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়, এই অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার প্রয়োজন নেই।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আটকে থাকা অর্থ একটি নির্দিষ্ট স্কিমের আওতায় রয়েছে। ‘ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো হয় সরাসরি এই অর্থ ফেরত পাবে, অথবা দীর্ঘমেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিট কিংবা শেয়ারের মাধ্যমে সমপরিমাণ মূল্য পাবে। ফলে এই অর্থ সম্পূর্ণ ক্ষতির মুখে পড়ছে না,’ বলেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ব্যাংক রেজুল্যুশন ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট সময় পর শেয়ার পেতে পারে অথবা পাঁচ বছর পর মুনাফাসহ অর্থ ফেরত পাবে। ‘তাই এ ধরনের অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার যৌক্তিকতা নেই,’ বলেন তিনি।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ওপর স্বল্পমেয়াদে চাপ কমবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com