1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
শেয়ারবাজারে কারসাজিতে শুধু জরিমানা নয়, হবে ফৌজদারি মামলাও - Business Protidin

শেয়ারবাজারে কারসাজিতে শুধু জরিমানা নয়, হবে ফৌজদারি মামলাও

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে গুরুতর বা উচ্চ প্রোফাইলের কারসাজি ও অনিয়মের ঘটনায় শুধু জরিমানা করে থেমে থাকবে না বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রয়োজন হলে এসব ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বিএসইসির মাসুদ খান বলেন, সাধারণ ঘটনায় প্রয়োজন অনুযায়ী জরিমানা করা হবে। তবে গুরুতর বা উচ্চ প্রোফাইলের ঘটনায় শুধু অর্থদণ্ড দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ রাখা হবে না। প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্বল নজরদারির কারণে শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। শুধু সূচক বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত হতে হবে যে নিয়ম সবার জন্য সমান, তাঁদের অর্থ নিরাপদ এবং অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুরক্ষিত ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হলেই প্রকৃত আস্থা ফিরবে।

জরিমানা আদায়ে জটিলতার বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, অতীতে অনেক জরিমানা আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আদায় হয়নি। এ কারণে সিকিউরিটিজ আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রোকারেজ হাউজে গ্রাহকের অর্থ বা সম্পদ নিয়ে অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা বা সম্পদ নিয়ে অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রোকার চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারির কাঠামো তৈরি করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বলা হয়েছে। ঘটনা ঘটার পর তদন্তের চেয়ে আগে থেকেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই লক্ষ্য।

বাজারে ভালো ও বড় কোম্পানি আনতে ডাইরেক্ট লিস্টিংকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, ভালো ও বড় কোম্পানি ছাড়া শেয়ারবাজারের গভীরতা তৈরি সম্ভব নয়। গত বছরের আইপিও বিধিমালায় কিছু সমস্যা ছিল। তাই বিকল্প পথ হিসেবে ডাইরেক্ট লিস্টিংকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজেও প্রায় দুই সপ্তাহ কাজ করে এ-সংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছেন। অনুমোদনের পর সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আহ্বান জানানো হবে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, মূল্য নির্ধারণ ও তালিকাভুক্তির খরচ বন্ড মার্কেটের বিকাশে বড় সমস্যা। ডিএসইর সঙ্গে আলোচনা করে মূল বোর্ডে বন্ড তালিকাভুক্তির কনসেন্ট ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচ কমানোর বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। শিগগির কয়েকটি বড় বন্ড মূল বোর্ডে লেনদেন শুরু করবে বলে আশা করছেন তিনি।

কারসাজি শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, আধুনিক বাজারে শুধু মানুষের ওপর নির্ভর করে নজরদারি যথেষ্ট নয়। অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন এবং একই ধরনের অ্যাকাউন্টের লেনদেন বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয় দ্রুত শনাক্ত করতে প্রযুক্তির প্রয়োজন। প্রথমে ডিএসইর স্বয়ংক্রিয় সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা আপগ্রেড করা হবে। এরপর এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা চালু করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

নিজের জবাবদিহির বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আপসের উদাহরণ পাওয়া গেলে সাংবাদিকদের তাঁকে প্রশ্ন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। দীর্ঘ করপোরেট জীবনে অর্থ, ক্ষমতা বা অন্য সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি অনিয়মের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি যতদিন বিএসইসিতে থাকবেন, তাঁর কারণে যেন কোনো অনিয়ম বা আপসের অভিযোগ না আসে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

ভবিষ্যৎ শেয়ারবাজারের লক্ষ্য সম্পর্কে মাসুদ খান বলেন, তিনি এমন একটি শেয়ারবাজার রেখে যেতে চান, যেখানে বিনিয়োগকারীর অর্থ নিরাপদ, বাজার স্বচ্ছ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিয়মভিত্তিক হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, ভালো কোম্পানি বাজারে আনার পরিবেশ তৈরি, এআইভিত্তিক নজরদারি, ব্রোকারদের জবাবদিহি এবং কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী বন্ড ও কমোডিটি মার্কেট গড়ে তুলতে চান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com