নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধনের তথ্য চেয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র জারিকৃত পৃথক দুটি চিঠি নিয়ে খাতজুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুসারে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আইডিআরএ’র লাইফ ও নন-লাইফ অনুবিভাগ থেকে পৃথক দুটি সার্কুলার জারি করা হয়।
লাইফ অনুবিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইফতেখারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে এবং নন-লাইফ অনুবিভাগের উপ-পরিচালক মো. সোলায়মান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কোন ব্যাংকে, কোন শাখায়, কী হিসাবে রাখা আছে -তা নির্ধারিত ছকে পূরণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।
চিঠির ছকে পরিশোধিত মূলধনের অর্থ প্রদর্শনের জন্য তিনটি খাত উল্লেখ করা হয়েছে- এফডিআর, সঞ্চয়ী হিসাব ও অন্যান্য। এমনকি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে তথ্যের পক্ষে যাবতীয় ব্যাংক প্রমাণকও তলব করেছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
বীমা আইন ২০১০-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, বীমা কোম্পানির নিবন্ধন বা অনুমোদনের সময় উদ্যোক্তাদের ১৮ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন কোনো অনুমোদিত ব্যাংকে উদ্যোক্তাদের নিজ নিজ অংশ দায়মুক্তভাবে জমা (এমটিডিআর/এফডিআর) রাখতে হয়।
একই সাথে আইনের ২৩ ধারা অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংকে ট্রেজারি বন্ড বা অনুমোদিত সিকিউরিটিজের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকার সংবিধিবদ্ধ জামানত বীমা কোম্পানির নামে রাখতে হয়। এক্ষেত্রে এই উভয় হিসাবের অর্থ আইডিআরএ অনুকূলে লিয়েন রাখতে হয়।
প্রাথমিক অনুমোদনের এই পর্যায়ে কোনো অবস্থাতেই সঞ্চয়ী বা অন্যান্য চলতি হিসাবে মূলধনের টাকা অলস রাখার আইনি সুযোগ নেই। অথচ আইডিআরএ চিঠির ছকে পরিশোধিত মূলধন কোন সঞ্চয়ী বা ‘অন্যান্য’ হিসাবে রয়েছে, তার কলাম জুড়ে দিয়েছে।
এ ছাড়াও বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করে বহু বীমা প্রতিষ্ঠান মুনাফার অংশ বা রিটেইন্ড আর্নিংস থেকে শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস শেয়ার দিয়ে তাদের পরিশোধিত মূলধনের আকার বাড়িয়েছে। বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোনো নতুন নগদ অর্থ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে না; বরং ইকুইটির অভ্যন্তরীণ অর্থ ক্যাপিটালাইজড হয়। সেই মূলধনের অর্থ কোন ব্যাংকের হিসাবে বা কোন এফডিআরে রয়েছে, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়ে উঠেবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি লাইফ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন অনুমোদনের পর বিভিন্ন লাভজনক খাতে এবং দৈনন্দিন পরিচালন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। পরিশোধিত মূলধন কখনোই ব্যাংকের সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে জমা থাকে না।
এক্ষেত্রে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রেরিত ছকটি আরো স্পষ্টভাবে খাত ভাগ করে অর্থাৎ যে যে খাতে বিনিয়োগের বিধান আছে সেভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল। তা না হলে, বর্তমানে প্রেরিত ছকে অনেক কোম্পানির মূলধ্যনের হিসাব দিতে সমস্যা হবে।
বীমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরামর্শক (জনসংযোগ) সাদিক আরমান বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধনের (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) তথ্য প্রদানে উল্লেখিত তিনটি কলামে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, আইডিআরএ ও সিএসই’র তথ্য অনুসারে- বর্তমানে দেশের সরকারি বেসরকারি ৩৫টি লাইফ বীমা কোম্পানির অথরাইজড ক্যাপিটাল বা অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। আর পেইড-আপ ক্যাপিটাল বা পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ২৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই হিসাবের মধ্যে বিদেশী মালিকানাধীন মেটলাইফ অন্তর্ভুক্ত নয়।
Leave a Reply