নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেসরকারি ইসলামি ধারার ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে এস আলম মুক্ত করতে চান গ্রাকরা। তাদের মতে এস আলমের প্রভাবে একটি প্রভাবশালী ব্যাংক আজ ধুকে ধুকে মরছে। এই ব্যাংকের ভিত্তি ভেঙে দিয়েছে বলে জানায় তারা।
জানা যায়, এস আলম ইসলামী ব্যাংকের দখল নেয়ার পর এ ব্যাংক ধ্বংসের নীলনকসা আঁকতে থাকে। এর প্রথম ধাপে ব্যাংকের সেবার মান ধ্বংস করতে পটিয়ার পানের দোকানদার, বাড়ির কাজের বুয়া,অটো চালক, রাজমিস্ত্রির সহকারী ও সাম্পানের রংমিস্ত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণির অশিক্ষিত ও অর্ধ্বশিক্ষিত লোক নিয়োগ দেয়।
কোন বিজ্ঞাপন ও চাকরির পরীক্ষা ছাড়াই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেয় ৮৩৪০ জনকে। নিয়োগকৃত এসব কর্মকর্তা কর্মচারির ম্যধ্যে অনেকেই ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে ব্যাংকে যোগদান করে। ইতোমধ্যে অনেক ভুয়া সার্টিফিকেটধারিকে বহিস্কার করেছে ইসলামী ব্যাংক। সার্টিফিকেট যাচাইয়ের এ প্রক্রিয়া চলমান বলে যানা গেছে।
তাদের যোগ্যতা পূনর্মূল্যায়নের জন্য সম্প্রতি ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেয়া হয় তা বয়কট করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবাধ্যতা প্রকাশ করে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা। তারা ব্যাংকের বিরুদ্ধে নানাবিধ অপপ্রচার করে সংবাদ সম্মেলন করছে এবং বর্তমান ম্যানেজমেন্টকে নানাবিধ হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।এসব কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে তারা ব্যাংকের ফেসবুক পেইজ হ্যাক করে। কতিপয় সন্ত্রাসীর ইন্ধনে তারা এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।
বিগত বছরগুলোতে শুধুমাত্র চট্টগ্রামের লোক নিয়োগ দেয়ায় অনেকটা আঞ্চলিক ব্যাংকের মতো হয়ে যায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই ব্যাংক। তারা অফিসে সব সময় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলত। বারবার তাগাদা দেয়ার পরও তারা নিজেদের পরিবর্তন করেনি বরং দিন দিন তাদের উদ্ধত আচরণ আরো বেড়েছে। তাদের অদক্ষতা ও দুর্ব্যবহারের ফলে গ্রাহক সেবার মান চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রাহক সেবায় ইসলামী ব্যাংকের যে সুনাম ছিল তা তলানিতে চলে যায়। তাদের ভাষা বুঝতে না পারা এবং সেবার মান নিম্ন হওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এস আলমের নিয়োগকৃত এসব কর্মকর্তার বেশিরভাগই পেশাগত দক্ষতা ছিলনা। তারা এস আলমের ক্ষমতা দেখিয়ে কলিগদের সাথে দুর্ব্যবহার ও ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা না মেনে খেয়াল খুশিমত চলত। নিজেদের পছন্দমত চট্টগ্রাম অঞ্চল ও সুবিধাজনক জায়গায় বদলি করতে বাধ্য করত। ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতন কেউ তাদের নিয়মের মাঝে আনতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পোষ্টিং বা চাকরি হুমকির মধ্যে ফেলত। তাদের ক্ষমতা ও ঔদ্ধত্বের কারণে আতংকের মাঝে থাকত সবাই।
এসব কর্মকর্তারা ব্যাংকের ম্যানেজার ও জোনাল হেড সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আতংকের মাঝে রাখত। জাতীয় নির্বাচনের পর তারা এস আলম সহ আগের যায়গায় ফিরে আসবে বলে এখনও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এস আলমের অবৈধ নিয়োগ দেয়া এসব কর্মকর্তাদের পিছনে বছরে ব্যাংকের ক্ষতি প্রায় ১৫০০ কোটি টাকারও বেশি বলে যানা গেছে। সেই হিসেবে ৭ বছরে প্রায় ১০ হজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাংকটি। একদিকে ব্যাংকের একলক্ষ কোটি টাকার উপরে লোপাট অন্যদিকে ব্যাংকের ঘাড়ে অবৈধ নিয়োগকৃত এতবড় খরচের বোঁঝা টেনে সামনে এগিয়ে যাওয়া ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের টাকা লুট ও অবৈধ নিয়োগের কারণে ব্যাংক খাত ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বক্তব্য দিয়েছেন।
সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের এক টকশোতে সিটি বাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মাসরুর আরেফিন বলেন,“এস আলম একাই পুরো ব্যাংক খাত ধ্বংস করেছেন।”
আমিনুল ইসলাম নামের একজন গ্রাহক তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, পটিয়ার অবৈধ ব্যাংকাররা চাকুরী রক্ষার আন্দোলন করেন কিন্তু আপনাদের ডাকাত সর্দার এস আলম যে ব্যাংক থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে তা ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করেন না কেন?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের হাতে এখন গ্রাহকের টাকা কোন ভাবেই নিরাপদ নয়। তারা যে ভাবে বিদ্রোহ করে ব্যাংকের নির্দিশনা আমান্য করেছে, তাতে তাদের কাছে ব্যাংকের ভল্ট বা ক্যাশ কাউন্টার কোন ভাবেই নিরাপদ নয়। এদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ব্যাংক অচিরেই ভয়ঙ্কর বিপদে পড়বে।
Leave a Reply