1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
আরও কমছে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা - Business Protidin
শিরোনাম :
প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত দেশে সরকারি ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ কার্যক্রম শুরু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্ষুদ্র ঋণ ব্যাংক’ গঠনের উদ্যাগ সরকারের পঞ্চমবারের মতো সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন সোনালী লাইফের বেতন কমছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ কর্মীদের ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি হতে লাগবে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা লাভেলো আইসক্রিমের এমডির পরিবারসহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা ও সফলতার মৌলিক ভিত্তি: আমির খসরু দারিদ্র্যসীমার নিচে যাওয়ার ঝুঁকিতে দেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি

আরও কমছে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় উৎস সঞ্চয়পত্র বিক্রি। কিন্তু উচ্চ সুদের চাপ কমাতে সরকার এখন ধীরে ধীরে সেই উৎস থেকে সরে আসছে। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আগ্রহ কমাতে ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছে সুদের হার। এর ধারাবাহিকতায় আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আরও দেড় শতাংশ সুদ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন সুদহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, সরকার এখন সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমিয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ঋণ সংগ্রহ বাড়াচ্ছে। কারণ এসব ক্ষেত্রে সুদহার তুলনামূলক কম। এতে সরকারের ঋণ ব্যয় কমলেও বিপাকে পড়ছেন সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর নির্ভরশীল মানুষ, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে প্রধান স্কিমগুলোর মুনাফার হার ৪৭ থেকে ৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়। তখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে সুদহার ১২.৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১.৮৩ শতাংশ করা হয়।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে হার কমে দাঁড়ায় ১১.৮২ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১২.৫০ থেকে ১১.৯৩ শতাংশ এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১১.৯৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এর আগে ২০২১ সাল থেকেই ধাপে ধাপে এসব স্কিমে সুদহার কমানো এবং বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরি পলিসি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১) ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, “মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, আবার বেসরকারি বিনিয়োগও কমে গেছে। ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে, তারা সরকারের ট্রেজারি বিল-বন্ড কিনছে। এসবের সুদহার সাড়ে ৯ শতাংশের কাছাকাছি, যা সঞ্চয়পত্রের চেয়ে কম। তাই সরকার তুলনামূলক সস্তা উৎসে ঋণ নিচ্ছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা—অর্থাৎ বিক্রি কমেছে ৪১ শতাংশ।

নিট বিক্রির ঋণাত্মক প্রবণতা আগের বছরগুলোতেও দেখা গেছে—২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ৬৩ কোটি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ২১ হাজার ১২৪ কোটি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “মানুষের আগ্রহ যাতে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে সরে আসে, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিকল্প উৎস থাকায় সরকার এখন সঞ্চয়পত্রে ঋণ নির্ভরতা কমাতে চায়।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলাম তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার ছিল ৯.৫০ শতাংশ, ১৮২ দিনের ৯.৭১ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিনের ৯.৬০ শতাংশ। এর আগে ৮ অক্টোবর ২ বছর মেয়াদি বন্ডে সুদহার ছিল ৯.৪৪ শতাংশ, ১০ বছরের ৯.৯০ শতাংশ, ১৫ বছরের ৯.৬৬ শতাংশ এবং ২০ বছরের ৯.৭০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক খাত থেকে নিট ঋণ নেওয়া কমে দাঁড়ায় ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৯৪ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com