নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে তালিকাভুক্ত লোকসানি কোম্পানি কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডে বা পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগের ঘটনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামসহ ৬ পরিচালককে ১ কোটি টাকা করে জরিমানাসহ মোট ৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা অর্থদন্ড করেছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, বিনিয়োগের অর্থ ফেরাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের ১০০ কোটি টাকা জরিমানা গুণতে হবে। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ও রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজার থেকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭৮তম কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ পরিচালিত ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ড থেকে তালিকাচ্যুত পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের ৫১ শতাংশ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে ২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হলেও ২৮৯ টাকা ৪৮ পয়সা দরে কেনা হয়েছে।
বিনিয়োগের সময় কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। প্রতি শেয়ারের নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ঋণাত্মক ২ টাকা ৭৪ পয়সা এবং রিটেইন আর্নিংস ঋণাত্মক ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা (৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত)। ওই সময় ডিএসইর ওটিসি প্ল্যাটফর্মে শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ১৩ টাকা ৬০ পয়সা।
বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাইস সেনসেটিভ ইনফরমেশন প্রকাশ না করা, বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) না করা এবং প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা শেয়ার লক-ইন না করার কারণে কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের ছয় পরিচালককে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়।
জরিমানা প্রাপ্ত পরিচালকরা হলেন ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিনিধি পরিচালক রিয়াজ ইসলাম, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিনিধি পরিচালক রেজাউর রহমান সোহাগ, তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিনিধি পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহসান, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিনিধি পরিচালক মেদিনা আলী, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের প্রতিনিধি পরিচালক সৈয়দ কামরুল হুদা এবং এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের প্রতিনিধি পরিচালক মো. ওমর সোব চৌধুরী।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এই ছয় ফান্ড থেকে বিনিয়োগকৃত ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সুদসহ মোট ৯০ কোটি টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত আনতে হবে। ফেরতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত না আনার ক্ষেত্রে রিয়াজ ইসলামকে ৯৮ কোটি টাকা, পরিচালক জর্জ এম স্টক থ্রিকে ১ কোটি টাকা ও রেজাউর রহমান সোহাগকে ১ কোটি টাকা অতিরিক্ত জরিমানা প্রদান করতে হবে। মোট জরিমানা হবে ১০০ কোটি টাকা।
বিএসইসি ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০০১’ লঙ্ঘন করে লোকসানি ও নিষ্ক্রিয় কোম্পানিতে বিনিয়োগ করায় এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তদারকিতে ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরিতে ব্যর্থতার অভিযোগে শফিক বসাক অ্যান্ড কোম্পানিকে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে।
মিথ্যা তথ্য প্রদানের কারণে কোয়েস্ট বিডিসির চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান সোহাগকে ১০ লাখ টাকা এবং তিন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারণে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আহসানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কোয়েস্ট বিডিসি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ৫২ টাকা ২৫ পয়সা করে মোট ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা থাইরোকেয়ার বাংলাদেশ লিমিটেডে বিনিয়োগ করে। শেয়ার মূল্যায়ন করে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড। তদন্তে দেখা গেছে, তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরশাদ হোসেন ও রিয়াজ ইসলামের যোগসাজশে শেয়ার মূল্যায়ন করা হয় এবং মানি লন্ডারিং হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply