নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছে। এটি প্রায় এক দশকের মধ্যে ডিএসই’র সর্বনিম্ন লভ্যাংশ প্রস্তাব।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বাজারের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ডিসেম্বর। আর রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ নভেম্বর।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে ডিএসই’র লভ্যাংশ প্রদানের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। পরের বছরগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে নেমে আসে—২০২২ সালে ৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে। এবার ১ দশমিক ৭ শতাংশ প্রস্তাব শেয়ারহোল্ডারদের আয় আরও কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিএসই’র আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে এর প্রতি শেয়ারে আয় (ইপিএস) আগের বছরের তুলনায় ৪৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ পয়সায়। এ সময়ে প্রতি শেয়ারে নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ১০ টাকা ৪২ পয়সা, আর প্রতি শেয়ারে কার্যকর নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ছিল ঋণাত্মক ১৬ দশমিক ৮ পয়সা।
ডিএসই সূত্র জানায়, লেনদেন ফি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির চার্জ, ডেটা বিক্রি, লাইসেন্স ফি এবং প্রশিক্ষণ একাডেমির আয়ের মতো মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থবছরে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকার সুদ এবং ১০ কোটির বেশি ভাড়ার আয় সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সহায়তা করে। ফলে শেষ অর্থবছরে ডিএসই প্রায় ৩৩ কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসই’র প্রস্তাবিত লভ্যাংশ মূলত এর সীমিত আয়ের সক্ষমতা ও মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা কমে যাওয়ার প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠানটি এখন বিনিয়োগ ও ভাড়াজনিত আয়েই টিকে আছে।
তারা মনে করেন, ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ কমে আসা বিনিয়োগকারীদের আস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন প্রতিষ্ঠানটি নিজের অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন ব্রোকারের হাতে রয়েছে ৪০ শতাংশ শেয়ার, আর ২৫ শতাংশ মালিকানায় রয়েছে চীনা কনসোর্টিয়াম।
Leave a Reply