নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালায় নতুন শর্ত আরোপকে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ব্যাংকারদের অভিযোগ, নতুন যোগ্যতার শর্তটি বৈষম্যমূলক এবং এটি মেধাভিত্তিক পদোন্নতির সুযোগকে সংকুচিত করবে।
সম্প্রতি সংশোধিত ২০২৬ সালের নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমডি পদে পদোন্নতির জন্য প্রার্থীকে কমপক্ষে ২০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদে ন্যূনতম দুই বছর দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর আগে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের নীতিমালায় ডিএমডি পদে নির্দিষ্ট সময় চাকরির এমন কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই শর্তের ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমডি পদে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ হারাবেন। এতে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক অসন্তোষও বাড়তে পারে।
ব্যাংকারের দাবি, এই শর্ত বাস্তবে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা সীমিত করে দেবে এবং এটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, সততা ও কর্মদক্ষতাকেই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত; নির্দিষ্ট পদে চাকরির সময়কালকে নয়।
সমালোচকদের মতে, নতুন বিধানটি স্বচ্ছতা, সমান সুযোগ এবং মেধাভিত্তিক পদোন্নতির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে কর্মকর্তাদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাতের প্রশাসনিক পরিবেশেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নতুন সার্কুলার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ডিএমডি পদে দুই বছরের বাধ্যতামূলক অভিজ্ঞতার শর্ত প্রত্যাহার করে এমডি নিয়োগে যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, সততা ও সামগ্রিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
Leave a Reply