1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
এডিপি বাস্তবায়নে ধস, ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন - Business Protidin
শিরোনাম :
ডিএসইর ৪ ডিজিএমসহ ৮ কর্মকর্তাকে নোটিশ ছাড়াই অব্যাহতি এডিপি বাস্তবায়নে ধস, ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল রূপান্তরের ঘোষণা আইডিআরএ চেয়ারম্যানের আইডিআরএ’র নতুন চেয়ারম্যানকে জেনিথ লাইফের শুভেচ্ছা আইডিআরএ’র নতুন চেয়ারম্যানকে ন্যাশনাল লাইফের সিইও’র শুভেচ্ছা ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানকে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের ফুলেল শুভেচ্ছা বীমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি হাজারে ২.৫০ টাকা হারে পরিশোধের নির্দেশ ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার সহায়তা শ্রমিক অসন্তোষের জেরে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের কারখানা বন্ধ

এডিপি বাস্তবায়নে ধস, ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরেরে প্রথম ১১ মাসে (জুলাই–মে) মাত্র ৪৮ শতাংশ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে। জুলাই–মের হিসাবে এই বাস্তবায়ন হার গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

জুলাই–মে সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭৬৯ কোটি টাকা। টাকার অঙ্ক ও বাস্তবায়ন হার—উভয় দিক বিবেচনা করলেও গত ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা।

আইএমইডির ওয়েবসাইটে ২০১০–১১ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতি অর্থবছরের জুলাই–মে সময়ের হিসাব দেওয়া আছে। পুরোনো তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, গত ১৬ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন হার। এই সময়ে প্রতিবছর গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়। এবার তা ৫০ শতাংশের কম হলো।

কারা সবচেয়ে খারাপ করল: এডিপির মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। প্রতিবছর বাজেটের সময় এডিপির মাধ্যমে এসব মন্ত্রণালয়ের চলমান ও নতুন প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১১ মাসের প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র বেশ হতাশাজনক। যেমন—সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের একটি প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। কিন্তু গত ১১ মাসে এক টাকাও খরচ করা সম্ভব হয়নি। সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন হার শূন্য।

চলতি অর্থবছরের ১১ মাস সময় পেরিয়ে গেলেও নিজেদের প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দের ২৫ শতাংশও খরচ করতে পারেনি ৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো পারফরম্যান্স সবচেয়ে দুর্বল। সংসদবিষয়ক সচিবালয় ছাড়া তালিকায় থাকা অন্য বিভাগ ও মন্ত্রণালয় হলো—স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ; জননিরাপত্তা বিভাগ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

কেন বাস্তবায়ন কম: প্রতিবছরের মতো এবারও কেন এডিপি বাস্তবায়ন কম হলো—তা নিয়ে এবার আলোচনা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে এডিপি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

যেমন— প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের সক্ষমতার অভাব। কর্মপরিকল্পনা অনুসারে যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারা; ঠিকাদারদের ঢিলেঢালাভাবে কাজ শেষ করার চিন্তাভাবনা। যেমন, এক মাসে যে কাজ শেষ করা সম্ভব, খরচ বাঁচাতে সেই কাজ কম লোকবল নিয়ে তিন মাসে শেষ করা; প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রতা আছে। মামলা মোকদ্দমার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায় না; চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এর মানে, সরকারের টাকার জোগানে টান পড়েছে। সরকার বেতনভাতা, দেশি–বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধসহ অবধারিত খরচগুলো আগে মেটায়। এরপর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থের জোগান দেয়। এভাবে অগ্রাধিকারে পিছিয়ে যায় উন্নয়ন প্রকল্প; প্রকল্প নেওয়ার সময় সম্ভাব্যতা যাচাই ঠিকমতো না হওয়ায় পরে নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন মূল্যায়নে এটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

এছাড়াও অনুমোদন, দরপত্র, ক্রয়—সব পর্যায়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও ধীর সিদ্ধান্তের কারণে দীর্ঘসূত্রতা থাকে। এতে প্রকল্পের শুরুতেই সময় নষ্ট হয়; ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জটিলতা, পুনরায় দরপত্র বা আপত্তির কারণে কাজ শুরুতেই দেরি হয়; তদারকি ও জবাবদিহির দুর্বলতায় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না হলে সমস্যা জমতে থাকে, সময়মতো সমাধান হয় না; সরকার বা নীতির পরিবর্তনে প্রকল্পের অগ্রাধিকার বদলে যেতে পারে, ফলে কাজ থেমে যায় বা ধীর হয়। যেমন, এবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে নতুন সরকার এসে পুরোনো কিছু প্রকল্প যাচাইবাছাই করতে কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটি এখন যাচাই করে সুপারিশ করবে। এই সময়ে হয়তো ওইসব প্রকল্পের কাজ ধীরগতি থাকবে, অর্থ ছাড় কমবে; দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে কাজের মান খারাপ হওয়া, অপ্রয়োজনীয় ব্যয়—এসব কারণে প্রকল্প বারবার সংশোধন করতে হয়, সময় বাড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com