নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একদিনে চার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)সহ আট কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। জনবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসই।
তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কোনো কারণ বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুত চার ডিজিএম হলেন জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের মো. আব্দুল লতিফ ও হোসনে আরা পারভীন, আইসিটি বিভাগের শাহিন সারওয়ার এবং ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক। এ ছাড়া দুই সিনিয়র ম্যানেজার ও নিচের পদে আরও দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, জনবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাদের চাকরি অবসান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট পদগুলো আর প্রয়োজন নেই। চাকরি অবসানের পর তারা ১২০ দিনের সমপরিমাণ বেতন নোটিশের পরিবর্তে পাবেন। পাশাপাশি চলতি মাসের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের প্রাপ্য অর্থ, অব্যবহৃত ছুটির নগদায়নসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হবে। সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে অতিরিক্ত দুই মাসের সমপরিমাণ বেতনও দেওয়া হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত পাওনার হিসাব প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে। হিসাব পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে আপত্তি না জানালে তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। প্রযোজ্য কর, অগ্রিম, ঋণ বা অন্য দায় সমন্বয়ের পর চাকরি অবসানের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হবে।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের একজন মো. আব্দুল লতিফ বলেন, চাকরিচ্যুতির বিষয়ে চিঠিতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তার দাবি, ব্যবস্থাপনা তাদের পছন্দমতো লোকজন দিয়ে প্রতিষ্ঠান সাজাতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমি ২১ বছর ধরে ডিএসইতে চাকরি করছি। এত দিন কাজ করার পর এ ধরনের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা পাইনি।’
হোসনে আরা পারভীন বলেন, চাকরির বিধি অনুযায়ী ৬৫ বছর পর্যন্ত চাকরিতে থাকার সুযোগ রয়েছে। কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ চাকরি না থাকার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, চিঠি দেওয়ার আগেই তাঁর কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাকরিচ্যুত আরেক ডিজিএম বলেন, প্রায় ৩২ বছর চাকরি জীবনে ডিএসইতে এ ধরনের ঘটনা দেখেননি। তার ভাষ্য, পদ বিলুপ্তির যে কারণ দেখানো হয়েছে, সেটি প্রকৃত কারণ নয়।
তবে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। ডিএসইকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি রিসোর্স অপটিমাইজেশন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের জনবল কাঠামো পর্যালোচনার পর বোর্ড নীতিগত অনুমোদন দেয়। পরে ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী পদগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। পুরো প্রক্রিয়া আইন, বিধিবিধান ও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে।
মমিনুল ইসলাম বলেন, যেসব পদ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নয় বলে বিবেচিত হয়েছে, সেসব পদই বিলুপ্ত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তির কর্মদক্ষতা বা ব্যক্তিগত কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। ভবিষ্যতেও এসব পদে নতুন নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
Leave a Reply