নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (বিএএসএম) বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে বিলুপ্ত করা যায়, সে বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে আইনি মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই মতামতের ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের তালিকা চূড়ান্ত করে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়াতে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিনিয়োগ শিক্ষামালা গেজেটের আওতায় প্রতিষ্ঠিত বিএএসএম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিনিয়োগ শিক্ষা, আর্থিক সাক্ষরতা এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে আসছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্যই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
যদিও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে, বিএএসএমের কাজ ছিল ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগকারীদের দক্ষতা উন্নয়ন।
সবশেষ প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে প্রায় আট হাজার অংশগ্রহণকারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বিএএসএম। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, স্টক ব্রোকার ও ডিলারের কর্মকর্তা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও), কোম্পানি সচিব এবং অন্যান্য পেশাজীবী। এ ছাড়া শতাধিক কর্মশালা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে বিএএসএমে কোনো নিয়মিত মহাপরিচালক নেই। এরপরও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সদ্য বিদায়ী বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সময় থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়।
বিএএসএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু ভেঙে ফেলতে খুব বেশি সময় লাগে না। কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করা যেত। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা সমাধান নয়।’
বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, এখনো বিএএসএম বন্ধের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হলেও পুঁজিবাজারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে না। তিনি বলেন, বিএসইসির নিজস্ব প্রশিক্ষণ উইং রয়েছে। এ ছাড়া বিআইসিএম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রশিক্ষণ একাডেমিও এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সমস্যা হবে না।
বিএএসএমের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বাণীতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি ও পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য দেশব্যাপী আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানো জরুরি। সেই লক্ষ্যেই বিএএসএম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং এটি সরকারের আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Leave a Reply