নিজস্ব প্রতিবেদক: জানুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৩০৬ টাকা। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে অটোগ্যাসের দামও । প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, রোববার (০৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। তবে বিইআরসি ঘোষিত দামে এলপিজির প্রাপ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
কমিশন ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করলেও, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ রবিবার বিকেলে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ কমিশনের সদস্য মো. মিজানুর রহমান, মো. আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদ সারওয়ারের উপস্থিতিতে নতুন দাম ঘোষণা করেন।
এদিকে কিছুদিন আগেও সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেও এ দাম কমেছিল। নভেম্বর মাসে এলপিজির দাম ২৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা অক্টোবরের ১ হাজার ২৪১ টাকা এবং সেপ্টেম্বরের ১ হাজার ২৭০ টাকার চেয়ে কম ছিল।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে পশ্চিমা দেশগুলোতে চাহিদা বাড়ায় বৈশ্বিক বাজারে সাধারণত এলপিজির দাম বৃদ্ধি পায়। আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম সৌদি আরামকোর কন্ট্রাক্ট প্রাইসের ভিত্তিতে সমন্বয় করা হয়। বিইআরসি ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে মাসভিত্তিক এলপিজির দাম সমন্বয়ের প্রক্রিয়া চালু করে, যেখানে কেবল বেস প্রাইস পরিবর্তন হবে এবং কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়।
সম্প্রতি এক সেমিনারে জ্বালানি উপদেষ্টা ফৌজুল কবির খান বলেন, একটি এলপিজি সিলিন্ডারের ন্যায্য দাম হওয়া উচিত প্রায় ১ হাজার টাকা। তিনি বলেন, “১ হাজার ২০০ টাকার সিলিন্ডার ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবসা চলতে পারে না।” তিনি অতিরিক্ত মুনাফা আদায় কমানো এবং পুঁজি পাচার বন্ধের আহ্বান জানান।
Leave a Reply