1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১০৭ কোটি উত্তোলনের বিপরীতে আমানত এসেছে ৪৪ কোটি টাকা - Business Protidin

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১০৭ কোটি উত্তোলনের বিপরীতে আমানত এসেছে ৪৪ কোটি টাকা

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে দুই দিনে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন হলেও একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। এটিকে গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও নুরুন নাহার, নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সাধারণত একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘ সময় লাগে। তবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই), ক্যাপিটালাইজেশন, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং ব্যাংকিং লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। নতুন প্রণীত ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, রেজুলেশন অর্ডিন্যান্সের আওতায় ইতোমধ্যে রেজুলেশন স্কিম জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন চলছে। একই সঙ্গে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালকসহ একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন ব্যাংকার ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করা হবে।

দুই দিনের লেনদেনের তথ্য তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ১ ও ৪ জানুয়ারি মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলনের মাধ্যমে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা তোলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে। সেখানে ৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক প্রায় ৬৬ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক।

গভর্নর আরও জানান, সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো পাঁচটি ব্যাংকের জন্য একটি সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা, যার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। অন্যটি হলো অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিট। একই সঙ্গে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা যেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের দুরবস্থার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছেও বিষয়টি হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, ফরেনসিক অডিট রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে কীভাবে টাকা বের হয়েছে, কোন হিসাবে গেছে এবং কারা এর সুবিধাভোগী। কাউকে অকারণে ছাঁটাই করা হবে না। তবে অনিয়মে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মুনাফার হার প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার হার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ও নতুন পণ্য একীভূত করে গ্রাহকদের জন্য নতুন শরিয়াহসম্মত প্রোডাক্ট চালু করা হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com