1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশী দশজনসহ জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান - Business Protidin
শিরোনাম :
নানান জটিলতায় লোকসানে পুরো ব্যাংক খাত বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে ডিএসই ১০ ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের প্রায় অর্ধেকই ঝুঁকিতে প্রোটেক্টিভ লাইফের দুই গ্রাহকের পরিবারকে ৭ লাখ টাকার মৃত্যুদাবি পরিশোধ রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশী দশজনসহ জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান বীমা খাতে লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক সাত কোম্পানির, শীর্ষে ফারইস্ট ব্যাংকিং খাতের কিছু আইন ব্যবসা-বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে: বিএবি চেয়ারম্যান ধারে ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্স পাওয়ার শর্তে অনিয়মের অভিযোগ শান্তা লাইফের বিরুদ্ধে ৫৪ বছরে দেশে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৪৮০

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশী দশজনসহ জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আইনি পরামর্শের জন্য খসড়া অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার মামলার ডকেট ও খসড়া চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাওয়া বিস্তৃত ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তে দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা নথি, ডিজিটাল আলামত ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগপত্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক খাতের এ ধরনের বড় অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে দ্রুত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি হলে আর্থিক খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সিআইডির একটি নির্ভরশীল সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। চুরির ঘটনার ৩৯ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিআইডি শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত করছে।

গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই কমিটির তত্ত্বাবধানে রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে গত ১ এপ্রিল খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগপত্র সংক্রান্ত আইনি পরামর্শও চাওয়া হয়।

খসড়া অভিযোগপত্রে মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, নর্থ কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশের জড়িত যারা
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্তে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানের নানা গাফিলতি, ঘটনা গোপন করা, আলামত মুছে দেওয়ার চেষ্টাসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে চার্জশিটভুক্ত না করতে অদৃশ্য চাপ আসে। তবে চূড়ান্ত চার্জশিটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান আতিউর রহমান আসামির তালিকায় রয়েছেন।

এছাড়া ওই সময়ের ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সভাপতি আনিস এ খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক কে এম আবদুল ওয়াদুদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম, তৎকালীন উপমহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহাসহ ৯ কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

ফিলিপাইনের আসামি যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের কাম সিন ওং, মায়া সান্তোস দেগুইতো, রাউল ভিক্টর বি তান, ব্রিজিট আর কাপিনা, নেস্তর ও পিনেদা, রোমুয়ালদো এস আগারাডো, অ্যাঞ্জেলা রুথ এস টরেস, লোরেঞ্জো তান, মিস ন্যান্সি, জাও কিওগ, ডেনিস সি ব্যানকোড, ইসমায়েল আর রেইস, সাবিনো এম ইকো, মিস লিজেন্ড জে রাসেলা, রিচার্ড ইনসাইন, উইলিয়াম সোঁ গো (মৃত্যুবরণ করেছেন), সালুদ রেইস বাউতিস্তা শেবা, মিশেল বাউতিস্তা কনকন, অ্যান্থনি এ পেলেজো, জন ইউ, লুইস ফাব্রেগাস খো, ম্যান পো চান, মিং ই সাইমন সি, রোজালিও পরানতা তান্দুয়ান, এনরিকে কে রাজোন, থমাস আরাসি, জোসে এডুয়ার্ডো জে আলারিলা, ক্রিশ্চিয়ান আর গনজালেস, ডোনাটো সি আলমেইদা ও ফ্লিন্ট রিচার্ডসনের নাম এসেছে। এছাড়া দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন, ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশন, সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিং, আব্বা কারেন্সি এক্সচেঞ্জ, ইনকরপোরেশন, বিকন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ইনকরপোরেশন, মিডাস ক্যাসিনো ও সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোর নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।

ভারতের আসামি যারা
ভারতের নাগরিক নীলাভান্নান মাদুক্কুর আনন্দন, প্রীতম রেড্ডি, সুধীন্দ্র আত্রেশ ও রাকেশ আস্তানা।

এছাড়া উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিন হিয়োক ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাজারাস গ্রুপ, চীনের ৩ নাগরিক ডিং ঝিজে, গাও শুহুয়া ও ওয়েইকাং জু এবং জাপানি নাগরিক সাসাকির নাম রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ৭ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত
শ্রীলঙ্কার আসামির মধ্যে হেগোডা গামাগে শালিকা পেরেরা, ইমিয়াগে ডন মিউরিন রানাসিংহে, রামানায়েক আরাচ্চিগে ডন প্রদীপ রোহিত দামকিন, বুলুগাহা আরামবেগেদারা সাঞ্জিবা তিসা বান্দারা, ওয়েরাপুলি মুহান্দিরামগে প্রিয়াঙ্কা জয়দেব, লুয়াইস হান্নাদিগে শিরানি ধম্মিকা ফার্নান্দো ও নিশান্ত নলক ওয়ালাকুলু আরাচ্চি নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে শালিকা ফাউন্ডেশনের নাম রয়েছে।

রিজার্ভ চুরির মামলার সবশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে তিনি দায়িত্ব নেন। তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্তের ৮০ শতাংশ কাজ প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পন্ন করে গেছেন। পরে দুজন তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সবশেষে আমি চেষ্টা করেছি নির্ভুল একটি চার্জশিট প্রস্তুত করতে। তদন্তে আমাদের আর কোনো কাজ পেন্ডিং নেই। এরই মধ্যে শতভাগ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি পরামর্শও চাওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুনের আগে রিজার্ভ চুরির মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ কবির। ২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে তিনি মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি রিজার্ভ চুরির প্রধান অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত রিজার্ভ চুরির মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ ইয়াসিন। তার সময়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলাটির তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হন্তান্তরের প্রক্রিয়া চলে।

যদিও জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেই চেষ্টা বিফলে যায়। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত রিজার্ভ চুরির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মং থোয়াই মারমা। রিজার্ভ চুরির মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান। তিনি ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত করেন। সেসময় তিনি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলআর) মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অপরাধ সংশ্লিষ্টতার তথ্য সংগ্রহ করেন। চুরি যাওয়ার অর্থের ৩৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার দেশে ফিরে আনাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা, অর্থপাচারের পথ ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে দীর্ঘসময় ধরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com