বাণিজ্য ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগামছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মে মাসের পর এই প্রথম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে অবশ্য দাম কিছুটা কমে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৫ দশমিক ২০ ডলারের ওপরে। একই সঙ্গে বন্ড বাজার থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এখন সবচেয়ে বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়া, বিকল্প রুটেও সংকট, জাহাজের বিমা জটিলতা, রাশিয়ার সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক তেলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
তাদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে দাম ১৫০ ডলার অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের মজুত গত পাঁচ মাসে প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে চীনের মজুত কমে আসায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটিকে আবারও তেল আমদানি বাড়াতে হতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও পড়তে পারে।
Leave a Reply