নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সেকশন থেকে এ-সংক্রান্ত একটি তদন্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের স্বার্থে ডিএসইর সুষ্ঠু প্রশাসন নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব পালনে ঘাটতি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যবসা বা শেয়ার লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন।
তদন্তের আওতায় ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার সদস্য নম্বর ১৪১-এর উত্থাপিত অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আর্থিক অব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং অনিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া।
এ ছাড়া ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও), জেনারেল ম্যানেজার (জিএম)-সহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিকিউরিটিজে লেনদেনে জড়িত থাকার বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তা, তাঁদের পরিবারের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুঁজিবাজারের অন্য কোনো ব্যবসায় সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে—বিশেষ করে যেখানে ডিএসই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক বা ফিডিউশিয়ারি সম্পর্ক রয়েছে।
তদন্তে ডিএসইর রিসোর্স অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি (আরএসি), রিসোর্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশন (আরএডি), নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি (এনআরসি) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। চুক্তিভিত্তিক পদ, উপদেষ্টা ও ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের বিষয়ও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী ডিএসইর ব্যবস্থাপনা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিধান যথাযথভাবে মেনে চলেছেন কি না, তাও যাচাই করা হবে।
তদন্তের জন্য বিএসইসির তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—বিএসইসির পরিচালক এ এস এম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক (এডি) মো. মতিউর রহমান।
আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তাদের এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয় উপযুক্ত মনে হলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২১ ধারা এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর ১৭ বিধির ক্ষমতাবলে এ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
Leave a Reply