1. baiozidkhan@gmail.com : admin_bizp :
পুঁজিবাজার সংস্কারে ১৮০ দিনে সরকারের নানা উদ্যোগ - Business Protidin

পুঁজিবাজার সংস্কারে ১৮০ দিনে সরকারের নানা উদ্যোগ

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, কারসাজি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কার্যক্রমের বড় অংশ বাস্তবায়ন করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে পুঁজিবাজারে নেওয়া উদ্যোগগুলোর একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাজার সংস্কারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন ফিরিয়ে আনতে সব কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৯ জুন এ ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়। এর ফলে শেয়ারের দাম এখন চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে।

এআই দিয়ে নজরদারি: কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং ও অন্যান্য অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যব্যবস্থার সমন্বয় ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারীদের সুরক্ষায় হুইসেল ব্লোয়ার নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগও রয়েছে।

ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তি: পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে ভালো মৌলভিত্তির দেশীয়, সরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বন্ড ও সুকুক বাজার সম্প্রসারণ: শুধু শেয়ারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে করপোরেট বন্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ড ও ইটিএফের বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। এতে শিল্প ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম হচ্ছে ডিজিটাল: আইপিও আবেদন, বন্ড ও সুকুক অনুমোদন এবং লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিও হিসাব খোলা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনবোর্ডিং প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল বাজার গড়ে তোলা। তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগগুলোর সফলতা নির্ভর করবে সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর। কারসাজি ও অনিয়মের দ্রুত বিচার এবং কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকনে ক্লিক করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Businessprotidin.com
Site Customized By NewsTech.Com