নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার সময় পুঁজিবাজার নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বাজারটি কার্যত স্থবির অবস্থায় ছিল। একই সময়ে চলতি বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য একসঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা অতীতের বাজেটে একসঙ্গে দেখা যায়নি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) “বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়” শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ খান বলেন, ব্যক্তিশ্রেণির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের ওপর চূড়ান্ত কর ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। করদাতার প্রকৃত করের স্তর যা-ই হোক না কেন, লভ্যাংশের ক্ষেত্রে এই ১৫ শতাংশ কর অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা। এ ছাড়া বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার-
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হয়। এটি বহু বছরের একটি বড় ‘পেইন পয়েন্ট’ ছিল, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য।
ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর আন্তর্জাতিক সূচক প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সূচক প্রকাশ স্থগিত করেছিল বলেও জানান তিনি। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের বাজার নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর থেকে এমএসসিআই বাংলাদেশের সূচক আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি দেশের পুঁজিবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বেক্সিমকো ফার্মার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সমস্যা সমাধান-
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের দীর্ঘদিনের লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ-সংক্রান্ত সমস্যাও কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে সমাধান করেছে বলে জানান মাসুদ খান।
তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে অন্য কোনো কোম্পানির বিদেশি বাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারত। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কয়েকটি বড় কোম্পানির সঙ্গে বিদেশে তালিকাভুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
বাজারবান্ধব মার্জিন নীতিমালা–
মার্জিন ঋণের নিয়মকে আরও বাজারবান্ধব করতে কমিশন দ্রুত কাজ করেছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, একটি নিয়ম পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ। প্রথমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা, এরপর প্রস্তাব তৈরি, আইনি যাচাই, জনমত গ্রহণ এবং তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্তভাবে গেজেট প্রকাশ করতে হয়।
তিনি বলেন, জনমত নেওয়ার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দিতে হয়। এরপর পাওয়া মতামত সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রস্তাব গেজেটে পাঠানো হয়। ফলে একটি নিয়ম পরিবর্তনে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগে।
ব্রোকারদের নজরদারি নিয়ে ব্যাখ্যা–
ব্রোকারদের নজরদারি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, ব্রোকারদের অনেক ধরনের দায়িত্ব রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি দীর্ঘদিনের বড় ধরনের সিসি ঘাটতিও রয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিএসইসি সতর্ক করে এবং প্রয়োজন হলে জরিমানা করে। তবে বড় ধরনের সিসি ঘাটতির ক্ষেত্রে শুধু জরিমানা করলেই সমস্যার সমাধান হবে কি না, সেটি বিবেচনার বিষয়। কারণ বড় ধরনের অনিয়মে মামলা হলে তা বছরের পর বছর আদালতে চলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতিতে জরিমানায় কাজ না হলে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংবাদে তাঁর বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা হয়েছে।
মাসুদ খান বলেন, ব্রোকারদের ওপর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে এবং প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply